বাংলাদেশ, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ইং ,

শিরোনাম

কেন ও কীভাবে ৭২ ঘণ্টার জরুরি প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ব?


প্রকাশের সময় :3 November, 2026 5:38 : PM

মো: হাসান মুরাদ :

বিশ্বে বড় দুটি যুদ্ধ চলমান, একটি ইউরোপেইউক্রেন-রাশিয়া অন্যটি মধ্যপ্রাচ্যে (পশ্চিম এশিয়া) ইরান-হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন-সৌদি ও মিত্রদের। ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভাষ্যে। অন্যদিকে তীব্র হয়ে উঠছে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ, বিরূপ আবহাওয়া নিয়ে হাজির সুপার এল নিনো। এর মাঝেই সাইবার হামলা, এআই বিপর্যয়ের শঙ্কা বাড়ছে। সব মিলিয়ে আন্তঃসম্পর্কের বিশ্বব্যবস্থায় প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগের সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বড় বিপর্যয়ের পূর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এশিয়ায় জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় তাদের নতুন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশব্যাপী জরুরি প্রস্তুতির আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার বিরোধী দলের সংসদ সদস্য এরমিয়েতি সামসুদিন,
উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর অনুসরণে নিজ দেশেও জরুরি প্রস্তুতির তাগিদ দিয়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার জন্য অপেক্ষা না করে মালয়েশিয়ার নাগরিকদের এখন থেকেই যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

পূর্ব প্রস্তুতির পুরনো আলোচনা নতুন করে সামনে কেন?

ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় শুকনো খাবার রাখা বা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে জরুরি ব্যাগ গুছিয়ে রাখার মতো বিষয়গুলো অনেক আগে থেকেই প্রচলিত।

তবে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে নতুন করে এবং একযোগে এই যে জোরদার আলোচনা ও সরকারি প্রচারণা চলছে, এসবের পেছনে কিছু সুনির্দিষ্ট এবং উদ্বেগজনক কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, এবারের প্রেক্ষাপট আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল এবং বহুমুখী।

সহজ কথায়, আগে আমরা মূলত নির্দিষ্ট কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন বন্যা বা ঝড়)-এর জন্য প্রস্তুত হতাম। কিন্তু এখন সরকারগুলো এমন কিছু মানব সৃষ্ট ও অদৃশ্য সংকটের আশঙ্কা করছে, যা পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে।

আগে দুর্যোগগুলো সাধারণত একটি একটি করে আসত। কিন্তু এখন বিশেষজ্ঞরা পলিক্রাইসিস এর সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। এর মানে হলো, একসঙ্গে কয়েকটি বড় সংকট আঘাত হানতে পারে।

যেমন একটি বড় সাইবার হামলার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। ঠিক সেই সময়েই একটি তীব্র ঝড় বা বন্যা শুরু হলো। বিদ্যুৎ না থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হবে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম বন্ধ থাকায় মানুষ খাবার বা ওষুধ কিনতে পারবে না।

এই ধরনের জট পাকানো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্যই নাগরিকদের আলাদাভাবে প্রস্তুত হতে বলা হচ্ছে।

উন্নত দেশগুলোর নাগরিকরা প্রযুক্তির ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট বা ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা একদিনের জন্য বন্ধ হলেও অকল্পনীয় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে শত্রু রাষ্ট্র বা হ্যাকার গোষ্ঠীগুলোর প্রধান লক্ষ্য থাকে কোনো দেশের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হাসপাতাল বা ব্যাংকিং সিস্টেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সাইবার হামলা চালিয়ে তা অচল করে দেওয়া। এই অদৃশ্য যুদ্ধের হুমকি আগে এতটা প্রকট ছিল না।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা বিশ্বনেতাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক দেশ উপলব্ধি করেছে, তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর।

রাশিয়ার সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ধরনের যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। উন্নত দেশগুলো তাই তাদের নাগরিকদের মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তবিকভাবে প্রস্তুত রাখছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনঘন, তীব্র এবং অকল্পনীয়ভাবে আঘাত হানছে। যে এলাকায় আগে বন্যা হতো না, সেখানে এখন ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যা হচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

ফলে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট সংকটের শঙ্কায় যুক্তরাজ্য অক্টোবর থেকে জনসাধারণের জন্য বি রেডি (প্রস্তুত থাকা) অভিযান শুরু করেছে, যেখানে পরিবারগুলোকে অন্তত ৭২ ঘণ্টা স্বাবলম্বী থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সুইডেন সম্প্রতি তাদের জনগণের জন্য সংকট অথবা যুদ্ধ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে একটি আপডেট করা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এখন ফ্রান্সও তিন দিনের জরুরি কিট তৈরির জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।

কেন ৭২ ঘণ্টার জরুরি প্রস্তুতি?

বিশ্বব্যাপী ৭২ ঘণ্টার জরুরি প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পূর্ব প্রস্তুতি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন: বন্যা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়), বিদ্যুৎ বিপর্যয়, সাইবার হামলা, মহামারি কিংবা ভূরাজনৈতিক বা যুদ্ধকালীন সংকটের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে সরকারি বা আন্তর্জাতিক ত্রাণ বা উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে সাধারণত প্রথম ৩ দিন বা ৭২ ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।

নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির রেসিলিয়েন্স বিষয়ক অধ্যাপক ড্যানিয়েল অলড্রিচ বলেন, বড় কোনো দুর্যোগের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্র (সরকারি সহায়তা) আপনার কাছে নাও পৌঁছাতে পারে। তাঁর মতে, নতুন করে দেওয়া এই পরামর্শগুলো হলো সরকারগুলোর নিজেদের সামর্থ্যের সীমাকে নীরবে স্বীকার করে নেওয়া। ১৯৯৫ সালে কোবেতে এবং পরবর্তীতে ২০১১ সালে জাপান এটি বুঝতে পেরেছিল। যখন ভূমিকম্পে ধসে পড়া ঘরবাড়ি থেকে প্রতিবেশি ও পরিবারের সদস্যরাই বেশিরভাগ মানুষকে উদ্ধার করেছিল।

নতুন করে ৭২ ঘণ্টা প্রস্তুতির

প্রচারাঅভিযানগুলো বেশ দ্রুত সময়ের মধ্যে একের পর এক শুরু হয়েছে। গত ২২ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের ক্যাবিনেট অফিস তাদের তিন বছর মেয়াদী প্রচারের প্রথম ধাপ বি রেডি চালু করে, যেখানে অংশীদার হিসেবে ৫০০টিরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য সংস্থা এবং সামাজিক গোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে।

এর কিছুদিন পর, জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী গোশি হোসোনো জানান, তাঁর দেশেও একই পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। অন্যদিকে, ফরাসি সরকার তাদের ২০ পৃষ্ঠার নির্দেশিকা তু রেসপনসেবল (সবাই দায়িত্বশীল) প্রকাশ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে।

প্রায় একই সময়ে নির্দেশিকাগুলো আসার ঘটনাটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। অলড্রিচ বলেন, সরকারগুলো একে অপরের কাছ থেকে এবং নরডিক মডেল অনুসরণ করছে। যেখানে দেশের প্রতিরক্ষায় প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব ভূমিকা থাকে।

অলড্রিচের ভাষ্যে, রাষ্ট্র এবং নাগরিকের মধ্যকার পারস্পরিক সমঝোতা বা প্রতিশ্রুতির পরিবর্তন হয়েছে। কয়েক দশক ধরে প্রচলিত ছিল: আমাদের (সরকার) ফোন করুন, আমরা চলে আসব। কিন্তু এখন বার্তাটি দাঁড়িয়েছে: আমরা আসব ঠিকই, তবে এর আগে আপনাকেই প্রথমে পরিস্থিতি সামলে নিতে হবে।

দুর্যোগ নাকি যুদ্ধের প্রস্তুতি?

যুক্তরাজ্যের ‘বি রেডি’ প্রচারণায় তিন দিনের জরুরি রসদ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং সাইবার হামলা, অন্তর্ঘাত এবং শত্রুবাহিনীর হুমকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বিশেষজ্ঞ অলড্রিচের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সাইবার নিরাপত্তার সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগের রেখাচিত্র এখন মিলে গেছে। যেমন—জাপান ভূমিকম্পকে কেন্দ্র করে, ফ্রান্স যুদ্ধ ও সাইবার হামলাকে সরাসরি উল্লেখ করে, এবং ইউরোপীয় কমিশনও অন্তত ৭২ দিন বা তিন দিন স্বাবলম্বী থাকার সুপারিশ করেছে। এই সাধারণ উদ্যোগের মূল কথা হলো—জরুরি পরিস্থিতিতে নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে সক্ষম নাগরিকেরা বাইরের সহায়তার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না থেকেই যেন সংকট মোকাবিলা করতে পারে।

ইউরোপের দেশগুলো যখন নাগরিকদের পূর্ব প্রস্তুতি নিতে বলছে তখন ভিন্ন পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা সাধারণ জনগোষ্ঠীর প্রস্তুতির চেয়ে সামরিক প্রস্তুতির ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে যেকোনো বাহ্যিক সহায়তা ছাড়াই অন্তত ৯০ দিন কার্যকর রাখার লক্ষ্যে ফোর্ট্রেস আমেরিকা নামে একটি বিশেষ উদ্যোগের ঘোষণা দেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠানো এক স্মারক অনুযায়ী, এই উদ্যোগটি মূলত জ্বালানি স্বাবলম্বিতা, শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল ও প্রতিরক্ষা শিল্প, কৌশলগত প্রতিরক্ষা রিজার্ভ, সামরিক স্থাপনার সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং মহাকাশ ও বর্ণালী ক্ষেত্রের সুরক্ষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে নানা অস্থিরতার মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের কেন হঠাৎ এই কৌশলগত পরিবর্তন তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স ও টিকটকে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্বেগের কেন্দ্রে কোন কারণ?

যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক কোনো প্রচারণায় নির্দিষ্ট কোনো হুমকির কথা বলা হয়নি। তবে দুই দেশই সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি স্বীকার করেছে। গত ২১ অক্টোবর কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের একটি বহুল ব্যবহৃত ভাষায় মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর বিশ্বজুড়ে একের পর এক ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়ে।

এফবিআইয়ের সাইবার বিভাগের সাবেক সহকারী পরিচালক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘লেভেলব্লু’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জেমস ট্রেনার বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে টানা সচেতনতা তৈরির চেষ্টা দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতিতে এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকেই নির্দেশ করে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সাইবার সমস্যা কখনোই ছোট হয় না। যত বেশি ডেটা এবং সংযোগ বাড়ছে, অপরাধীরাও তত বেশি নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবন করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই আসার পর, এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সিস্টেমে ত্রুটি খুঁজে বের করা, তা ব্যবহার করে আক্রমণ চালানো কিংবা সুনির্দিষ্ট ফিশিং ইমেইল তৈরির কাজ আগের চেয়ে অনেক দ্রুত হচ্ছে। ফলে আগামীতে এই ঝুঁকি কেবল বাড়তেই থাকবে।

৭২ ঘণ্টার জরুরি প্রস্তুতিতে কী করবে পরিবারগুলো?

দেশভেদে পরামর্শে কিছু ভিন্নতা থাকলেও জরুরি রসদের মূল তালিকাটি প্রায় একই: খাবার পানি, দীর্ঘস্থায়ী পচনশীল নয় এমন শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, লাইট (টর্চ) ও অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম (ফার্স্ট এইড কিট), রেডিও, ফোন চার্জার এবং কিছু নগদ অর্থ। পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, পোষা প্রাণী এবং যাদের নিয়মিত প্রেসক্রিপশনের ওষুধ প্রয়োজন পরিবারগুলোকে তাঁদের বিশেষ চাহিদার কথা বিবেচনায় রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি রসদ এমন স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত যেন তা দ্রুত নাগাল পাওয়া যায়। নিয়মিত সেগুলোর মেয়াদ পরীক্ষা করা এব্বং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা পরিবর্তন করে নেওয়া। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সর্বসাধারণকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা, বিশেষ করে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া কিংবা এলাকা খালি করার মতো পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাসা ছাড়তে হলে গ্যাসের চুলা, পানির লাইন এবং বিদ্যুতের মেইন সুইচ নিরাপদে বন্ধ করার উপায় জেনে রাখা একটি জরুরি পদক্ষেপ। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কোথায় সবাই একত্রিত হবেন (যেমন: কাছের কোনো নির্দিষ্ট পার্ক, স্কুল বা নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র) তা আগেই পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করে রাখা।

ট্যাগ :