বাংলাদেশ, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ইং ,

মোগল আমলে ঢাকায় ব্যবসা করতে আসতেন যেসব দেশের ব্যবসায়ীরা


প্রকাশের সময় :2 November, 2026 12:01 : PM

মো: হাসান মুরাদ :

একসময় ঢাকার নাম ছড়িয়ে পড়েছিল দূরদেশেও। এই শহরের মসলিন, সুতি কাপড় ও অন্যান্য পণ্যের চাহিদা ছিল দেশি-বিদেশি বাজারে। সেই চাহিদার টানে ঢাকায় আসতেন নানা অঞ্চলের ব্যবসায়ী। কেউ আসতেন পারস্য থেকে, কেউ আর্মেনিয়া থেকে বা এশিয়ার অন্য অঞ্চল থেকে। আবার কেউ আসতেন ইউরোপের বাণিজ্যিক কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে। তাদের কেউ বাংলার কাপড় কিনে নিয়ে যেতেন দূরদেশে, কেউ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ করতেন। নদীপথে পণ্য আসত, বাজারে চলত দরদাম, আর তাঁতিদের তৈরি কাপড় পৌঁছে যেত দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের কাছে।

সপ্তদশ শতকে মোগল শাসনের অধীনে ঢাকা যখন বাংলার অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছিল, তখন এই শহরের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসে। সপ্তদশ শতকের গোড়ার দিকে মোগল সুবাদার ইসলাম খান চিশতি বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের নাম অনুসারে শহরটির নাম রাখা হয় জাহাঙ্গীরনগর। রাজধানী হওয়ার সুবাদে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সৈন্য, কারিগর ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়ে। একই সঙ্গে বাংলার বস্ত্রশিল্পকে ঘিরে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হয়।

মসলিনের টানে ঢাকায় বিদেশি বণিকেরা
ঢাকার বাণিজ্যের কথা বলতে গেলে প্রথমেই আসে মসলিনের নাম। সূক্ষ্ম সুতোয় বোনা এই কাপড়ের কদর ছিল অভিজাত ও রাজপরিবারের মধ্যে। মোগল দরবারেও ঢাকার মসলিনের চাহিদা ছিল। সম্রাট ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরনের কাপড় তৈরি করা হতো।

রাজদরবারের চাহিদা মেটাতে নির্দিষ্ট মানের মসলিন তৈরির বিশেষ ব্যবস্থাও ছিল। আর বাংলার তাঁতিরা শুধু মসলিনই নয়, নানা ধরনের সুতি ও রেশমি কাপড় তৈরি করতেন। এসব পণ্যের ক্রেতা ছিলেন স্থানীয় অভিজাত, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের ব্যবসায়ী এবং বিদেশি বণিকেরা।

ইউরোপীয় পর্যটক ও বণিকদের বিবরণেও বাংলার বস্ত্রের বিপুল চাহিদার কথা উঠে এসেছে। ফরাসি চিকিৎসক ও পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ের সপ্তদশ শতকে বাংলার অর্থনীতি ও বস্ত্রবাণিজ্যের সমৃদ্ধির কথা লিখেছিলেন। ১৬৬৫-৬৬ সালে তিনি ঢাকায়ও এসেছিলেন। তাঁর বিবরণ থেকে বাংলার কাপড়ের বিস্তৃত বাজার সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এসব কাপড় ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়িয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও পৌঁছাত।

তবে এই বাণিজ্য শুধু বিদেশি ক্রেতা আর তাঁতিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। উৎপাদকদের কাছ থেকে কাপড় সংগ্রহ করতে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকার ও মধ্যস্থতাকারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিদেশি বণিকেরা অনেক সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কাপড় সংগ্রহ করতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁতিদের আগাম অর্থ দিয়ে নির্দিষ্ট ধরনের কাপড় তৈরির অর্ডারও দেওয়া হতো। ফলে স্থানীয় উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে দূরদেশের বাজারের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

পর্তুগিজদের আগমন: বাণিজ্য ও সংঘাত
ঢাকায় ইউরোপীয়দের উপস্থিতির ইতিহাসে পর্তুগিজদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ষোড়শ শতকের শেষ ভাগে ঢাকার আশপাশে তাঁদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তখন পর্তুগিজ বণিকেরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসা করতেন। তাদের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল হুগলি। সেখান থেকে ঢাকাসহ বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল।

পর্তুগিজদের ইতিহাসের আরেকটি দিক ছিল সংঘাত। বাংলার উপকূল ও নদীপথে কিছু পর্তুগিজ জলদস্যুর তৎপরতা মোগল শাসকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। দাস ধরে নিয়ে যাওয়া, লুটপাট ও নদীপথে হামলার ঘটনাও ঐতিহাসিক বিবরণে উঠে এসেছে। ১৬৩২ সালে মোগল সম্রাট শাহজাহানের বাহিনী হুগলিতে পর্তুগিজদের প্রধান ঘাঁটিতে অভিযান চালায়। এতে বাংলায় তাঁদের রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থান বড় ধাক্কা খায়।


তবে সব পর্তুগিজকে জলদস্যু হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। ব্যবসায়ী, ধর্মপ্রচারক, নাবিক ও জলদস্যুদের ভূমিকা এক ছিল না। মোগলদের সঙ্গে সম্পর্কের পরিবর্তনের পর অনেক পর্তুগিজ বণিক ও নাবিক মোগল প্রশাসনের অধীনেই কাজ করেন। ১৬৬৫-৬৬ সালে চট্টগ্রাম অভিযানের সময় পর্তুগিজরা শায়েস্তা খানের নৌবাহিনীকে জাহাজ দিয়ে সহায়তা করেছিল বলে একটি ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ আছে। অর্থাৎ, তাঁদের ইতিহাসে সংঘাতের পাশাপাশি সহযোগিতার ঘটনাও ছিল।

আর্মেনীয় বণিকেরা কীভাবে যুক্ত হলেন ঢাকার বাণিজ্যে?
বাংলায় আর্মেনীয় বণিকদের ব্যবসার বড় ক্ষেত্র ছিল বস্ত্র। ঢাকার মসলিন ও অন্যান্য কাপড় সংগ্রহ করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রির সঙ্গে আর্মেনীয় বণিকদের সম্পর্ক ছিল। কাপড়ের পাশাপাশি লবণ, সুপারি, আফিম ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবসাতেও তাদের অংশগ্রহণ ছিল।

তবে বাংলায় আর্মেনীয়দের বাণিজ্যিক উপস্থিতি এবং ঢাকায় তাঁদের স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠার সময় এক নয়। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সপ্তদশ শতকের প্রথম ভাগ থেকেই তাঁদের বাণিজ্যিক যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। ঢাকায় তাঁদের আগমনের সময় নিয়ে অবশ্য ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোনো কোনো গবেষণায় ১৬১৩ সালেই ঢাকায় আর্মেনীয় বণিকদের আগমনের কথা বলা হয়েছে। তেজগাঁওয়ের পর্তুগিজ গির্জার সমাধিলিপিতে ১৭১৪ থেকে ১৭৯৫ সালের মধ্যে মারা যাওয়া কয়েকজন আর্মেনীয় ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়।

একসময় ঢাকার দাপুটে ব্যবসায়ী, আজ আর্মেনীয়দের স্মৃতি শুধু গির্জা আর সমাধিফলকেআজ আর্মেনীয়দের স্মৃতি শুধু গির্জা আর সমাধিফলকে।

পরে পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় আর্মেনীয় সম্প্রদায়ের বসতি গড়ে ওঠে। আঠারো শতকে তাঁদের বাণিজ্যিক প্রভাব আরও বাড়ে। ঢাকার বস্ত্র রপ্তানিতে তাঁদের ভূমিকা ছিল। ১৭৪৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, আর্মেনীয় বণিকেরা ঢাকা থেকে কাপড় রপ্তানিতে ইংরেজ, ডাচ ও ফরাসিদের চেয়েও এগিয়ে ছিলেন। ব্যবসার পাশাপাশি তাঁরা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হন।

ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসি কোম্পানির প্রতিযোগিতা
সপ্তদশ শতকে বাংলার বস্ত্রের আন্তর্জাতিক বাজার বিস্তৃত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপীয় বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বাড়ে। পর্তুগিজদের পাশাপাশি ডাচ, ইংরেজ ও ফরাসি কোম্পানিগুলোও বাংলার বাজারে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলার সুতি কাপড়, মসলিন ও রেশম সংগ্রহ করে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা।

ঢাকায় ডাচদের বাণিজ্যিক উপস্থিতি গড়ে ওঠে সপ্তদশ শতকের ষাটের দশকে। এর আগে ১৬৩৬ সালে তাঁরা ঢাকায় বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। পরে ১৬৬০-এর দশকে তারা এখানে বাণিজ্যকুঠি, কার্যালয় ও গুদাম প্রতিষ্ঠা করেন। বুড়িগঙ্গার তীরে বর্তমান মিটফোর্ড হাসপাতালের এলাকায় ছিল বাণিজ্যকুঠি। ফরাসি পর্যটক ফ্রাঁসোয়া বার্নিয়ের ১৬৬৫-৬৬ সালে ঢাকায় এসে ডাচদের কাপড়ের ব্যবসার প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ডাচরা বাংলার কাপড় ইউরোপ ও জাপানের বাজারে রপ্তানি করত।

পুরান ঢাকার যেসব এলাকার নামে জড়িয়ে আছে পেশা ও সম্প্রদায়ের ইতিহাসপুরান ঢাকার যেসব এলাকার নামে জড়িয়ে আছে পেশা ও সম্প্রদায়ের ইতিহাস।

ঢাকায় ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬৬৯ সালে। ফরাসিরা ১৬৮২ সালে ঢাকায় নিজেদের বাণিজ্যিক অবস্থান গড়ে তোলে। এভাবে সপ্তদশ শতকের শেষভাগে ঢাকার বাজারে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়তে থাকে। স্থানীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা কাপড় সংগ্রহ করত। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রতিনিধিরা অর্ডার দিতেন, আগাম অর্থ সরবরাহ করতেন এবং নির্দিষ্ট মানের কাপড় সংগ্রহ করতেন।

ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বাংলার পণ্য কিনতে শুধু নিজেদের দেশে তৈরি পণ্য নিয়ে আসত না; তারা রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুও আনত। বাংলার বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকায় স্থানীয় পণ্য কেনার জন্য এসব অর্থ ব্যবহার করা হতো। ফলে বাংলার উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের হাতে নগদ অর্থ আসত। তবে এই অর্থের বণ্টন ও বাণিজ্যের শর্ত সব সময় সমান ছিল না। কোম্পানিগুলোর প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদকদের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণও বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে।

নদীপথই ছিল ঢাকার বাণিজ্যের প্রাণ
ঢাকার বাণিজ্যিক গুরুত্ব বোঝার জন্য এর নদীভিত্তিক ভূগোলের কথা আলাদা করে বলতে হয়। নদীপথের কারণে ঢাকা বাংলার বিভিন্ন বাণিজ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল। নৌপথে পণ্য পরিবহন ছিল তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। ফলে কৃষিপণ্য, বস্ত্র, কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য সহজে শহরে আনা এবং এখান থেকে অন্য অঞ্চলে পাঠানো যেত। প্রশাসনিক ও সামরিক গুরুত্বের পাশাপাশি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও ঢাকার বিকাশে এই নদীপথ বড় ভূমিকা রেখেছিল।

ঢাকার ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের দেখায়, মসলিন ও অন্যান্য পণ্যের সূত্র ধরে এখানে এসেছিলেন পারস্য, আর্মেনিয়া, আরব ও ইউরোপের নানা অঞ্চলের বণিকেরা। তাদের আগমন, স্থানীয় কারিগরদের উৎপাদন এবং নদীপথের যোগাযোগ মিলেই গড়ে তুলেছিল এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যনগরী। বিদেশি বণিকেরা তাই ঢাকায় এসেছিলেন বিস্তৃত উৎপাদন ও বাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে। এই ব্যবস্থায় তাঁতি, সুতো প্রস্তুতকারক, পাইকার, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী ও বিদেশি ক্রেতা—সবাই কোনো না কোনোভাবে অংশ নিতেন। ঢাকার বাজারের সঙ্গে দূরদেশের বাজারের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এই বহুস্তরীয় যোগাযোগের মধ্য দিয়েই।

বিদেশি বণিকদের আগমন ঢাকাকে কী দিয়েছিল?
মোগল আমলে ঢাকার বাণিজ্যের ইতিহাস আসলে বাংলার উৎপাদনক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ইতিহাস। বিদেশি বণিকদের আগমন বাংলার বস্ত্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও বিস্তৃত করেছিল। তবে এই বাণিজ্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল স্থানীয় তাঁতি, কারিগর ও ব্যবসায়ীদের শ্রমে। এশীয় বণিকদের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক যোগাযোগও এতে ভূমিকা রেখেছিল। মোগল প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা, রাজধানী হিসেবে ঢাকার গুরুত্ব এবং নদীপথের সুবিধাও এই বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল।

সুলতানি, মোগল ও ব্রিটিশ আমলে ঢাকার ঈদ কেমন ছিলসেকালের ঈদ-উৎসব। সংগৃহীত ছবি
তবে বিদেশি বাণিজ্যের বিস্তারকে শুধু সমৃদ্ধির গল্প হিসেবে দেখলে ইতিহাসের পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। কারা উৎপাদন করতেন, কারা লাভের বড় অংশ পেতেন, আগাম অর্থের বিনিময়ে তাঁতিরা কতটা স্বাধীনভাবে পণ্য বিক্রি করতে পারতেন—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সময় ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় এই সম্পর্কের ধরন বদলেছে। তাই মোগল আমলের সব বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এক রকম বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

ঢাকার ইতিহাসের এই অধ্যায় আমাদের দেখায়, মসলিন ও অন্যান্য পণ্যের সূত্র ধরে এখানে এসেছিলেন পারস্য, আর্মেনিয়া, আরব ও ইউরোপের নানা অঞ্চলের বণিকেরা। তাদের আগমন, স্থানীয় কারিগরদের উৎপাদন এবং নদীপথের যোগাযোগ মিলেই গড়ে তুলেছিল এক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যনগরী।

ট্যাগ :