বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ইং , ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ রাত ১:৫৯

শিরোনাম

ইসকন যে কোনো আইনানুগ ও সামাজিক জবাবদিহিতার জন্য সর্বদা প্রস্তুত


প্রকাশের সময় :৮ জুন, ২০২৬ ৬:৪৪ : অপরাহ্ণ

নিউজ ডেস্ক :

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন নন্দনকাননস্থ শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির তথা ইসকনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রচার প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মন্দির কমিটি। সোমবার ( ৮ জুন) সকালে মন্দির প্রাঙ্গনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তারণ নিত্যানন্দ দাস। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, চট্টগ্রামের অন্যতম অভিজাত ও সর্বজনশ্রদ্ধেয় সনাতনী পরিবার এন.এন. পাল পরিবার তাদের পরম আরাধ্য বিগ্রহ শ্রীশ্রী রাধামাধবের নিত্য সেবা-পূজা সুচারুরূপে পরিচালনা, সংশ্লিষ্ট মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং তৎসংলগ্ন মন্দির ও সম্পত্তির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের নিমিত্তে, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় উক্ত সম্পত্তির নিরবচ্ছিন্ন দখল ও পরিচালনা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইস্কন) নিকট হস্তান্তর করেন। তারই প্রেক্ষিতে ওই সম্পত্তিতে ইস্কন বিগ্রহের পক্ষে স্বত্ত্ব, মালিকানা ও ভোগ-দখলে নিরবিচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত রয়েছে। ফলশ্রুতিতে ওই সম্পত্তিতে স্থিত তৎকালীন ভাড়াটিয়াদের নিকট থেকে ভাড়া আদায়ের বৈধ আইনি অধিকারও স্বাভাবিক ভাবেই বিগ্রহ তথা মালিকের পক্ষে ইস্কন লাভ করে। পরবর্তীতে, বিজ্ঞ আদালতের আদেশে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্ত ভাড়াটিয়াগণ তাদের দখল ইস্কনকে কর্তৃপক্ষকে আইনসম্মত ভাবে বুঝিয়ে দিয়ে অন্যত্র প্রস্থান করেন। আশির দশকের শেষ হতে শুরু করে সুদীর্ঘ চার দশকেরও অধিককাল ধরে ইস্কন অত্যন্ত নিষ্ঠা, ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্য ও সনাতনী শাস্ত্রীয় অনুশাসন মেনে অত্র পবিত্র ভূমিতে শ্রীশ্রী রাধামাধবের সেবা, রথযাত্রা, জন্মাষ্টমী, গৌর-পূর্ণিমা ও অন্নকুটসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পরিচালনা করে আসছে, যেখানে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে। সুতরাং, এই সম্পত্তির ওপর ইস্কনের অধিকার সম্পূর্ণ বৈধ, অনস্বীকার্য এবং আইন দ্বারা সুরক্ষিত।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি সৌমেন পালিত ও তার দোসরগণ (গং) সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ও পেশি শক্তি ব্যবহার করে মন্দিরে প্রবেশের মূল ফটক এবং ভক্তদের চলাচলের ন্যায্য পথ অবরুদ্ধ করে একটি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। এটি জনস্বার্থ, মানবাধিকার ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের আইনগত অধিকারের চরম লঙ্ঘন। এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইসকন কর্তৃপক্ষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গত ২৩ মে প্রশাসনের নিকট আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগ দায়ের করেন। এর ধারাবাহিকতায় বিবাদীদের ক্রমাগত হুমকির মুখে গত ৪ জুন নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি রুজু করা হয়, যাহার জিডি নং- ৩৪০। সাধারণ ডায়েরি করার পর অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে, গত ৫ জুন দিবাগত গভীর রাতে সৌমেন পালিত গং মন্দির প্রাঙ্গন ও প্রবেশ পথে অবৈধ নির্মাণ কাজ পরিকল্পনা করার ধৃষ্টতা দেখায়। এমতাবস্থায়, মন্দিরের পবিত্রতা, মন্দির প্রাঙ্গন ও প্রবেশপথ রক্ষার্থে উপস্থিত ভক্তবৃন্দ শান্তিপূর্ণভাবে বাধা প্রদান করলে এসময় আগন্তুকের পক্ষ চরম আক্রোশে ফেটে পড়ে এবং তারা অকথ্য ও অশ্রাব্য
ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। ভগবানের মন্দিরে সর্বসাধারণের প্রবেশের আইনগত ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভক্তরা যখন প্রবেশ পথটি দখল বজায় রাখেন, ঠিক
তখনই পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাকেশ দাশ, রাহুল বিশ্বাস, মিল্টন বিশ্বাস, কৃষ্ণা দাশ ও ঋত্বিক দাশসহ একদল দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র, ইট-
পাটকেল নিয়ে অতর্কিত ও সহিংস হামলা চালায়। তারা মন্দিরের বেকারির কাচ ভাঙচুর করে বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন করে। এই কাপুরুষোচিত হামলায় প্রিয়স্ত ভৌমিক, দোলন দাস, উত্তম কুমার দাস, নোবেল বৈদ্যসহ বহু ভক্ত গুরুতর ভাবে রক্তাক্ত জখম ও আহত হন।

তিনি আরও বলেন, একই সময়ে, কোনো প্রকার উসকানি ছাড়াই, পশ্চিম পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে রতন কুমার বিশ্বাস ও তার স্ত্রী নিচে অবস্থানরত নিরস্ত্র ভক্তদের ওপর ফুটন্ত গরম জল এবং মরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করে। পরবর্তীতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমরা সুষ্পষ্টভাবে বলতে চাই, লোকনাথ ধাম কিংবা স্থানীয় সাধারণ সনাতনীদের সাথে ইসকনের নূন্যতম কোনো বিরোধ নেই এবং থাকার অবকাশও নেই। সৌমেন পালিত আমাদেরই একজন সনাতনী ভাই এবং প্রাক্তন ভাড়াটিয়া। যেখানে বিশ্বজুড়ে মানবকল্যাণে ইসকন নিয়োজিত, সেখানে কোনো ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ রাখার প্রশ্নই ওঠে না। কিছু কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইস্কনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে বিষোদগার করছে, যা সাইবার অপরাধের শামিল। উল্লেখ্য যে, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, দেশের বিদ্যমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পারস্পরিক সহ অবস্থান বিনষ্ট করার লক্ষ্যে একটি দেশি বিদেশী কুচক্রি মহল সংশ্লিষ্ট আগন্তুকদেরকে বশে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে এবং ইসকনের বিরূদ্ধে এই ইস্যুটাকে সামনে এনে পুরো সনাতনী সমাজকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) সারা পৃথিবী জুড়ে দেশ সমূহের প্রচলিত আইন, সংবিধান ও বিধিনিষেধের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে সনাতন ধর্ম ও সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমাদের পূর্বপুরুষদের এবং পুণ্যবান দাতাদের উৎসর্গীকৃত এই সম্পত্তি পূণ্যভূমি হিসেবেই সংরক্ষিত থাকবে। একটি মহল এই পবিত্র ভূমি গ্রাস করার জন্য ইস্কনের বিরূদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা করছে। ইসকন দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষনা করছে, সারা পৃথিবী জুড়ে সনাতন ধর্ম প্রচার প্রসার ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলো সংরক্ষণের ব্যাপারে সমগ্র সনাতনী সমাজকে নিয়ে ইসকন ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এর ব্যত্যয় হবে না। সনাতনী সমাজকে যে কোন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানান। তিনি বলেন, মন্দিরে অবস্থানরত সাধু-সন্ন্যাসীগণ নিজেদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বৈষয়িক সম্পত্তি পরিত্যাগ করে সম্পূর্ণ নিষ্কামভাবে, আশ্রমিক জীবনে থেকে ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছেন। কারো সম্পত্তি আত্মসাৎ বা জবরদখল করার কোনো পার্থিব অভিপ্রায় বা আইনি সুযোগ তাঁদের নেই। আমরা পেশীশক্তি, হঠকারিতা কিংবা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই এবং আইনের সুশাসনের প্রতি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করছি। কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য এবং প্রকৃত ঘটনা অবলোকন করতে আমরা সকলকে মন্দিরে আসার উদাত্ত
আহ্বান জানান এবং যে কোনো আইনানুগ ও সামাজিক জবাবদিহিতার জন্য ইসকন সর্বদা প্রস্তুত বলে জানান তারণ নিত্যানন্দ দাস। এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জ্যোতিশ্বর গৌরহরি দাস, যুগধর্ম দাস, পন্ডিত গদাধর দাস, অকিঞ্চন গৌর দাস, তারণ নিত্যানন্দ দাস, রুপেশ্বর গৌরাঙ্গ দাস, স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস, মুকুন্দ ভক্তি দাস, সুবলসখা শ্যাম দাস শচীদুলাল প্রেমসাগর দাস ও অপূর্ব মনোহর দাস।

ট্যাগ :