বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ইং ,

শিরোনাম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএর উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা


প্রকাশের সময় :4 November, 2026 11:46 : PM

মো: হাসান মুরাদ :

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএর উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়াও দুর্ঘটনাস্থলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন, মহাসড়কের অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ এবং সড়ক প্রশস্তকরণের কাজও শুরু হয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে নেওয়া এসব পদক্ষেপের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১৫ মামলায় জরিমানা করা হয় ৫৫ হাজার টাকা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুর্ঘটনাস্থলে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

এরপর সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে জেলা প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ দাবিটি বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠান জেলা প্রশাসক।

চিঠিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের জন্য দ্রুত ফুটওভারব্রিজ নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে চিঠি পাঠানোর পর বুধবার দুর্ঘটনাস্থলে রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে মহাসড়ক ও রেললাইনের মধ্যবর্তী এলাকায় অবৈধ পার্কিং ও দখল সরাতে বুধবার অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত কেডিএস ডিপোসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে পার্কিং করা যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় কেডিএস কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্যও নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম ও বিআরটিএ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক-এর দিকনির্দেশনায় এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সার্বিক সহযোগিতায় আজ ৪ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫.৩০টা পর্যন্ত এ সচেতনামূলক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পরিচালনা করা হয়।

উক্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বিআরটিএ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের ভ্রাম্যমান আদালত-১১ এর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা। উপস্থিত ছিলেন, ভাটিয়ারী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা এস এম হেলাল উদ্দিন, সীতাকুণ্ড সড়ক ও জনপদ উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুল, বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আমিনুজ্জামান, সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মজিদসহ বিআরটির’র অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন টোটাল গ্যাস কোম্পানি, কেডিএসসহ অন্যান্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যানবাহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যানবাহন চলাচল ও পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর সর্তকতা অবলম্বনের জন্য পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী রুট পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও ট্যাক্স টোকেন বিহীন যানবাহন চলাচল, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং যত্রতত্র শৃঙ্খলা বিহীনভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের অপরাধে ১৫টি তাৎক্ষণিক মামলায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। সেই সাথে দন্ডপ্রাপ্ত গাড়ির চালক ও মোবাইলে মালিকদের সাথে কথা বলে সতর্ক ও সংশোধন হওয়ার জন্য বলা হয়।

এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বলেন, মাইশার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও উদ্যোগে রয়েছে। বিআরটিএর মাধ্যমে নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে এ অর্থ দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির মালিকপক্ষ শনাক্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলাটি ১১ নম্বর। অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আইআইইউসির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত নিহত হন। এ ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী ও একজন পথচারী আহত হন। মাইশার মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আট দফা দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদে সড়ক পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, আট দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আলম বলেন, বুধবার অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে।

ট্যাগ :