বাংলাদেশ, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং ,

শিরোনাম

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্লাস্টিক বর্জ্য ঘিরে বড় শিল্পের সম্ভাবনা দেখছেন ডিসি জাহিদ


প্রকাশের সময় :26 October, 2026 2:04 : PM

তানভীর আহমেদ (বিশেষ প্রতিবেদক):

প্লাস্টিক বর্জ্যকে পরিবেশের জন্য হুমকি নয়, বরং সম্ভাবনাময় শিল্পের কাঁচামালে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, মানুষের মধ্যে প্লাস্টিক সংগ্রহের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে দেশে পুনর্ব্যবহারের বড় শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের সমঝোতা স্মারক সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া পরিত্যক্ত প্লাস্টিক নিয়মিত সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে এ সমঝোতা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া এ কর্মসূচিতে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক শিক্ষার্থী পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জমা দিয়ে বিনা মূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেছে। সাধারণত চিড়িয়াখানার প্রবেশমূল্য ৭০ টাকা হলেও ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা ১০০ গ্রাম ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিয়ে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, চিড়িয়াখানার এ উদ্যোগ দেখে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেকে তাঁকে ফোন করে প্লাস্টিক সংগ্রহ এবং সেগুলো পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে দেশে সংগৃহীত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, সবাই যদি সত্যি প্লাস্টিকগুলো সংগ্রহ করে, তাহলে আমার মনে হয়, এটা ভবিষ্যতে একটা বড় শিল্প হতে পারে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জমা হওয়া প্লাস্টিক নিয়মিত সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ায় পুনর্ব্যবহারের দায়িত্ব পালন করবে ইপসা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্টারপ্রাইজ। এ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন ও ইপসার মধ্যে কোনো অর্থ লেনদেন হবে না। প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য এ সমঝোতা কার্যকর থাকবে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি পাঠান মো. সাইদুজ্জামান। ইপসার পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক (অর্থ) পলাশ কুমার চৌধুরী।


কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই চিড়িয়াখানার প্রবেশমূল্য দেওয়া সম্ভব। কিন্তু প্লাস্টিক সংগ্রহ করে নিয়ে আসার মাধ্যমে তারা পরিবেশ ও সমাজের ওপর প্লাস্টিক দূষণের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জানার এবং ভাবার সুযোগ পাচ্ছে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য আগামী প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ তৈরি করা।
তিনি বলেন, আজকের এই সমঝোতা স্মারকটির পরিসর হয়তো ছোট, কিন্তু এর প্রভাব অনেক বেশি।

প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার বাস্তব সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্লাস্টিকের সঠিক ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার ও নিরাপদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পাটসহ প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

ইপসার কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে তিনি চিড়িয়াখানার বাইরেও এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও প্লাস্টিক সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় মানুষকে উৎসাহিত করতে পারে। এতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

চিড়িয়াখানাকে আরও সবুজ করার পরিকল্পনা :

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে আরও সবুজ ও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রায় ১৫০টি ডাবগাছ রোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানায় সাদা বাঘসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে সেখানে আগে না থাকা বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীও আনা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের কাছে চিড়িয়াখানার আকর্ষণ বাড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীদের চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুরা সেখানে এসে পশুপাখি দেখবে এবং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে জানবে। পাশাপাশি কিছুটা সময় মুঠোফোনের পর্দা থেকে বেরিয়ে বাস্তব জীবনের আনন্দ উপভোগ করবে। এ বার্তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতসহ জেলা প্রশাসন ও ইপসার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :