বাংলাদেশ, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ ইং ,

শিরোনাম

আর কোন তাঁবেদারি ও খবরদারি চলবে না বাংলাদেশের উপর : ভূমি প্রতিমন্ত্রী


প্রকাশের সময় :7 August, 2026 7:28 : PM

স্টাফ রিপোর্টার :

গণঅভ্যুত্থানের দাবিদার একক কেউ নয়, এই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত মালিক হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণ। ২০২৪’এর জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান যদি কেউ বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে সেই ধারণাটা শুধু ভুলই নয়, বিভ্রান্তিমূলক। যেদিন দেশের মানুষ মনে করেছে এই নির্যাতন দুঃশাসন আর নয়, এই স্বৈরাচারী সরকারের অধীনে থাকা আর নয়, আর নয় কোন পার্শ্ববর্তী দেশের তাঁবেদারি করা, সেদিনই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত ফলাফল এসেছে। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথ আলোচনা সভার আয়োজনে ‘ফ্যাসিবাদ, জুলাই বিপ্লব ও আজকের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী দুঃশাসন জগদ্দল পাথরের মত বাংলাদেশের উপর চেপেছিল। বিএনপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের গুম-খুন-হত্যা-পাশবিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে অত্যাচার করেছে। একই সাথে বিরোধী মতের সাংবাদিকসহ সব পেশার লোকদেরকে বর্বরোচিতভাবে অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, তারই একটি বিস্ফোরণ হচ্ছে জুলাই-আগস্টের সেই গণঅভ্যুত্থান। তিনি বলেন, কাউকে রাষ্ট্রক্ষমতা কিংবা সরকারে বসানোর জন্য নয়। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড়ানোর জন্যই এই বিপ্লবটা প্রয়োজন ছিল। তার প্রমাণ আপনারা দেখেছেন, যেদিন বাংলাদেশের এক ফেরারি ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভারতে বসে নির্লজ্জভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য প্রেস কনফারেন্স করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাথে সাথে খুবই কঠোর ভাষায় প্রতিবাদ করেছে।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশের জন্যই আমরা যুদ্ধ করেছি। আর কোন তাঁবেদারি ও খবরদারি চলবে না বাংলাদেশের উপর। বাংলাদেশ চলবে একটা নীতি মাথায় নিয়ে, সেটা হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আজকে কে এক দফার ঘোষণা দিয়েছে, কে দুই দফার ঘোষণা দিয়েছে, কার কত ক্রেডিট এগুলো নিয়ে আলাপ করতে করতে স্বৈরাচার এই সাহস দেখাতে চায়, ডিসেম্বরে কিংবা নভেম্বরে ফেরত আসবে। আমরা তো চাই ফেরত আসুক, ফেরত আসতেই হবে, গত ১৭ বছরসহ জুলাই-আগস্টে যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, গুম করেছেন- আপনাকে তার বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে বাংলাদেশে। কোন ক্যাঙ্গারো কোর্ট বা বিশেষ আদালতও করব না। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেই ইনশাআল্লাহ বিচার হবে। এবং যদি প্রমাণিত হয় ফাঁসির কাস্টেও চড়তে হবে।
মীর হেলাল বলেন, নিজের দলের নেতাকর্মীদের না বলে আত্মীয়-স্বজন পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন। স্বৈরাচার আমলের ক্ষমতার উচ্ছিষ্টভোগীরাও পালিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া এইসব সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের কারণে ৯০ ভাগের বেশি নেতাকর্মী এখন বাংলাদেশে মানবেতর জীবন যাপন করছে। যদি ধারণা করেন, এই নেতাকর্মী আপনাদের ডাকে মাঠে নামবে, এটা বোকার স্বর্গে বাস করা ছাড়া আর কিছু না।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ নওয়াজের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিঞা মোহাম্মদ আরিফের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নসরুল কদির, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এ আজিজ, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট তারিক আহমদ, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান ও আহত জুলাই যোদ্ধা চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।

ট্যাগ :