বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬ ইং , ২৬শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ রাত ৩:১৫

শিরোনাম

চট্টগ্রামে ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ আসলে মালিক সমিতিকে জরিমানা : ডা. শাহাদাত


প্রকাশের সময় :৮ জুন, ২০২৬ ৬:৪২ : অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রামে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি রোধে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

হাসপাতাল এলাকায় নির্ধারিত রেট চার্ট দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে দেওয়া হবে এবং কোনো অ্যাম্বুলেন্স চালক নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সোমবার ( ৮ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগী ও লাশ পরিবহনের নীতিমালায় বর্ণিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পুনর্মূল্যায়ন ও যৌক্তিককরণ বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এক বছর আগে বিভিন্ন গন্তব্যে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নির্ধারণ করে একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ৬ মাস পর তা থেকে সরে এসে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি। এখন তেলের দাম বাড়ার কারণে সমিতি এবং সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ৩০ শতাংশ ভাড়া বেড়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া রয়েছে ১ হাজার ১৪৪ টাকা।
সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে লোহাগাড়া উপজেলায়- নন এসি বড় অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৪০০ টাকা এবং এসি অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৭৮৫ টাকা।

এসময় মেয়র বলেন, এই ভাড়া মেনে চলতে হবে। যদি এর চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ আসে তাহলে আমরা তা মালিক সমিতির কাছ থেকে জরিমানা করবো। হাসপাতাল ক্যাম্পাস এবং সামনের সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রাখা যাবে না। ভ্রাম্যমাণ দোকানও বসানো যাবে না। অ্যাম্বুলেন্সের নামে যাতে কোনো মাইক্রোবাস চলতে না পারে সেদিকেও বিআরটিএকে দৃষ্টি দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটিতে চলমান কার্যক্রম ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। ২০২৩ সালে প্রায় ৯ হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল এবং ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৪৮ জন এবং মৃত্যু ১৬ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হয়েছিল ২ হাজার ৬২২ জন, মৃত্যু হয়েছিল ৮ জনের। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১০৭ জনে এবং এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

মেয়র বলেন, উন্নতমানের লার্ভিসাইড ব্যবহারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে এ সাফল্য এসেছে। আমাদের লক্ষ্য একটি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ামুক্ত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা। গত এক বছরে নগরীর জলাবদ্ধতা প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে। চলমান কাজের মাধ্যমে তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে উন্নীত করার আশা করছি। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, হাসপাতাল এলাকার ফুটপাত, মিড-আইল্যান্ড ও উন্মুক্ত স্থানগুলোতে সৌন্দর্যবর্ধন, সবুজায়ন এবং গ্রাফিতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সিটি করপোরেশন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ২০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন। হাসপাতালের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরে মেয়র বলেন, একসময় ৭৫০ শয্যার জন্য পরিকল্পিত হাসপাতালটি বর্তমানে প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী ও তাদের স্বজনদের সেবা দিচ্ছে। ফলে বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। এসময় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি, পুলিশ এবং বিআরটিএ’র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ চৌধুরী বলেন, সমিতির বাইরের অ্যাম্বুলেন্স এসে অনেক সময় ভাড়া নিয়ে যায়। এটা বন্ধ করতে হবে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন বলেন, বাইরে থেকে যেসব অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে আসে তারা যাওয়ার সময় আরেকটা ভাড়া নিয়ে যায়। এটা না করলেও চলে।

ট্যাগ :