
চট্টগ্রামে আলোচিত আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় তার ভাইয়ের দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলার তদন্তভার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ থেকে সরিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রোকে দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৩ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সিএমপির ডিবি উত্তর বিভাগের সহকারী কমিশনার মোস্তফা কামাল।গত ২৯ এপ্রিল মামলা তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল। এবিষয়ে আলিফ হত্যা মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতনামা মিলিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ আসামির কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি।
তদন্তের অগ্রগতি না দেখে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ পরিস্থিতিতে মামলার বাদী গত ২৯ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে অধিকতর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ডিবির পরিবর্তে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে তদন্তভার গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজনভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন লোকজন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় কৃষ্ণকে কারাগারে নিয়ে যায়। সেদিন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আলিফ নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় বাবা জামাল উদ্দিন হত্যা মামলা করেন। বর্তমানে আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আইনজীবীদের ওপর হামলা, বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের অভিযোগে আলিফের ভাই খানে আলম আরেকটি মামলা করেন, যেখানে ১১৬ জনকে আসামি করা হয়। এছাড়া আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরও তিনটি মামলা করে।
























