বাংলাদেশ, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ ইং , ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ সন্ধ্যা ৭:৪৯

শিরোনাম

সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এর চির বিদায়


প্রকাশের সময় :১৩ মে, ২০২৬ ৬:১৯ : অপরাহ্ণ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর। এর আগে কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বুধবার সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অক্টোবর মাসে তিনি গ্রেপ্তার হন। ২০২৫ সালের আগস্টে অসুস্থ হয়ে পড়লে পিজি হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরবর্তীকালে জামিনে মুক্ত হন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আজ (বৃহস্পতিবার) বাদ আসর মিরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম শহরে কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হবে না। ঢাকায় একটি জানাজা হবে, তবে সেটির স্থান ও সময় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। পরে ১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে এম এ আজিজের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯৭০ সালে প্রথমবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেওয়ার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পরে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় হুইপ এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালেও তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।

তিনি দলীয় রাজনীতিতে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার পিতা এস রহমান ছিলেন তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি ‘ওরিয়েন্ট বিল্ডার্স কর্পোরেশন’ এবং কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী ‘হোটেল সায়মন’ প্রতিষ্ঠা করেন। ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে তিনি ‘গ্যাসমিন লিমিটেড’ নামে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এছাড়া তিনি ‘দ্য পেনিনসুলা চিটাগাং’ হোটেলের চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ১৯৮০ সালে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় হামলায় তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। ১৯৮৮ সালে শেখ হাসিনার মিছিলে পুলিশের গুলিতে আহত হন। ১৯৯২ সালে ফটিকছড়িতে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। ব্যক্তিজীবনে স্ত্রী আয়েশা সুলতানার সঙ্গে সংসার জীবন কাটিয়েছেন তিনি। তাদের তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

ট্যাগ :