বাংলাদেশ, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ ইং ,

শিরোনাম

মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির দাবি! অভিযোগের বিরুদ্ধে পিএস আরমানের চ্যালেঞ্জ


প্রকাশের সময় :26 August, 2026 10:33 : AM

স্টাফ রিপোর্টার :

বিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হুমকি, মারধর এবং দোকানের মালামাল ও টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামে এক সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন একজন প্রবাসী।

চট্টগ্রামের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে গত ২৩ আগষ্ট রোববার মামলাটি করেন লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম কলাউজান গ্রামের আমির হোসেন।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী মো. আরমানসহ ছয় জনকে আসামী করে যে মামলা করা হয়েছ সে মামলার
অভিযোগ অস্বীকার করে পিএস মো. আরমান দাবি করেন, “বর্তমানে আমি সৌদি আরবে অবস্থান করছি। যে অভিযোগ করা হয়েছে তার পক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।”

বাদীর আইনজীবী কবির জিলান এ বিষয়ে বলেন, “আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে সাতকানিয়া সার্কেলের এএসপিকে নির্দেশ দিয়েছে।”

মামলার বাদী আমির হোসেন বলেন, “চাঁদা দাবির ঘটনা এবং কী কী ঘটেছে তা উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেছি গতকাল।”

মামলায় বলা হয়, প্রবাসী আমির হোসেনের কাছে মোবাইলে বারবার চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে তিনি দেশে ফিরে আসামিদের সঙ্গে কথা বলবেন বলায় তারা ‘ক্ষিপ্ত’ হয়ে উঠে। তখন আসামি আরিফ উদ্দিন ‘চাঁদা না দিলে বাদীর ঘর দখল করে নেওয়ার’ হুমকি দেন।

আরজিতে বলা হয়, চলতি বছরের ৩ এপ্রিল মো. আরমান আবার মোবাইলে বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী তাতে রাজি হননি।

পরে সেদিন রাত ২টায় আসামিরা আমির হোসেনর মালিকানাধীন ওই ভবনে ভাড়া দেওয়া আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ২৫টি আলমারি, আলমারি তৈরির শিট, দোকানের আসবাবপত্র এবং দোকানে থাকা নগদ সাড়ে ১১ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।

সেখানে বলা হয়, আসামিরা ওই দোকানে সেই রাতে তালা লাগিয়ে দেয় এবং ভবনটির অন্য ভাড়াটিয়াদের বলে যায়, পরে ঘর ভাড়ার টাকা যেন তাদের কাছে দেয়।

ওই ঘটনার পর বাদী আমির হোসেন দেশে এসে থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি বলে মামলার আবেদনে বলা হয়।

সেখানে বলা হয়, সবশেষ বাদী দেশে ফিরলে ২০ অগাস্ট সকালে ওই ভবনে আসামিরা বাদীর সঙ্গে বৈঠকে বসে আবার ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সেদিন মো. আরমান মোবাইল ফোনে বাদীকে বলেন, তার এলাকায় থাকতে হলে তাদের কথা মত চলতে হবে।

চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আসামি আলিফ উদ্দিন, শওকত আলী ও মো. আদিল সেদিন বাদী আমির হোসেনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয় মামলায়।

আর্জিতে বলা হয়, ওই ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েও মামলা না নেওয়ায় বাদী আদালতে হাজির হয়ে মামলার আবেদন করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ করা হলে মো. আরমান তার একটি লিখিত বক্তব্য পাঠিয়ে বলেন, বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

ওই লিখিত বক্তব্যে ‘স্পষ্টভাবে কয়েকটি প্রশ্নের জবাব চাই’ লিখে তিনি ছয়টি প্রশ্ন তুলে ধরেন।

৩ এপ্রিল বাদীকে ফোন করার কললিস্ট, কল রেকর্ড বা কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন আরমান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “গত ২০ অগাস্ট আমি নাকি বাদীর সঙ্গে বৈঠক করতে তার ভবনে গিয়েছিলাম। অথচ আমি গত ৭ অগাস্ট থেকে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছি। তাহলে ২০ অগাস্ট আমি কীভাবে বাংলাদেশে এসে তার ভবনে গেলাম? এই অভিযোগের সত্যতা কী?

“বলা হয়েছে, ২০ অগাস্ট আমি নাকি বাদীকে মোবাইলে আবারও হুমকি-ধমকি দিয়েছি। তাহলে সেই কথিত হুমকির কললিস্ট, কল রেকর্ড বা অন্য কোনো প্রমাণ থাকলে প্রকাশ করা হোক।”

আরমান বলেন, “চাঁদা দাবি করা হয়েছে, এমন অভিযোগ যখন করা হয়েছে, তখন নিশ্চয় কোনো না কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকার কথা। সেই প্রমাণ জাতির সামনে প্রকাশ করুন।

“বাদী যদি সত্যিই দাবি করে থাকেন যে, আমি বা আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছি, তাহলে তিনি এলাকার কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কাউকে বিষয়টি জানিয়েছেন কিনা, সেটাও স্পষ্ট করা হোক।”

তিনি বলেন, “আর একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাদীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। তার সঙ্গে আমার কখনো দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে কিংবা কোনো ধরনের যোগাযোগ হয়েছে, এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই। সুস্থ মস্তিষ্কে যতটুকু মনে পড়ে, তার সঙ্গে আমার এই জীবনে কোনো পরিচয় বা কথাবার্তাই হয়নি।

“আমি গালাগালি বা ব্যক্তিগত আক্রমণে বিশ্বাসী নই। তবে মিথ্যা, অপপ্রচার ও চরিত্র হননের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অধিকার আমার আছে। সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে রাখছি, আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, প্রমাণসহ প্রকাশ করুন। আর যদি প্রমাণ না থাকে, তাহলে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করে একজন মানুষের সম্মান ও চরিত্র নিয়ে খেলা বন্ধ করুন।”

প্রমাণ না থাকলে মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধ কর অনুরোধ জানিয়ে মো. আরমান বলেন, “অন্যথায়, আমার সম্মান ও অধিকার রক্ষায় আমি প্রয়োজনে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব। এবং ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অপপ্রচারকারীর বিরুদ্ধে প্রমাণ ও তথ্য চেয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।”

ট্যাগ :