বিশ্বজিৎ চৌধুরী :
লেখার জগতে দীর্ঘদিনের পথচলার পাশাপাশি ক্যামেরার লেন্সেও প্রকৃতি ও জীবনের গল্প তুলে ধরছেন শাহ মনসুর আলী নোমান। প্রকৃতির বৈচিত্র্য, মানুষের জীবন এবং নান্দনিক মুহূর্ত তাঁর আলোকচিত্রের প্রধান অনুষঙ্গ। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য,ভৌগোলিক পরিসর বদলালেও তাঁর এই সৃজনশীল চর্চায় ছেদ পড়েনি।সম্প্রতি তাঁর সেই আলোকচিত্রচর্চায় যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির নতুন অধ্যায়। ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারের বার্নলি থেকে ধারণ করা তাঁর একটি প্রকৃতিনির্ভর ছবি যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী দৈনিক ‘দ্য রিপাবলিক’-এর ৮ আগস্ট ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। ছবিটি পত্রিকাটির নির্বাচিত আলোকচিত্র হিসেবে স্থান পেয়েছে। একই দিনে পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণেও ছবিটি প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্য থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘দ্য রিপাবলিক’ ১৮৭২ সাল থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদের পাশাপাশি পত্রিকাটির ‘টেক ইয়োর বেস্ট শট’ বিভাগে নির্বাচিত আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়।
জানা গেছে, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা শাহ মনসুর আলী নোমান পেশাগত জীবনে শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি কলাম ও ফিচার লেখায়ও সক্রিয়। তাঁর লেখায় সমাজ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীবনঘনিষ্ঠ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখি ও আলোকচিত্র চর্চার প্রতি অনুরাগ শাহ মনসুর আলী নোমানকে সৃজনশীল এই দুই জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত রেখেছে। তাঁর কলাম, প্রতিবেদন ও আলোকচিত্র প্রকাশিত হয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও প্রভাবশালী সংবাদপত্রে।বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বাংলা’র প্রবাহ অনুষ্ঠানেও তাঁর ধারণকৃত ছবি স্থান পেয়েছে।
মনসুর নোমান লেখালেখিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি কর্তৃক ২০২৫ সালের সেরা ফিচার লেখক’ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।রিপাবলিকের মতো ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীনতম দৈনিক সংবাদপত্রে কোনো আলোকচিত্র প্রকাশিত হওয়া নিঃসন্দেহে শাহ মনসুর আলী নোমান এর সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতি এবং একটি মর্যাদাপূর্ণ অর্জন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমসাময়িক সমাজ, পরিবেশ দূষণ, নদীভাঙন, পাহাড় কাটা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, স্থানীয় অবকাঠামো সমস্যা, যোগাযোগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, সংস্কৃতি, প্রশাসন, রাজনীতি ও মানবাধিকার,এই বিষয়গুলো তাঁর লেখার প্রধান ক্ষেত্র। তাঁর একাধিক প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বাস্তব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে।
তাঁর লেখা কলাম, নিবন্ধ, প্রতিবেদন ও আলোকচিত্র দেশে-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে। ইংল্যান্ডে আসার আগে তিনি নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শাহ মনসুর আলী নোমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে এমজিএস (দ্বিতীয় মাস্টার্স) সম্পন্ন করে মেধাক্রমে ব্যাচে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস এবং এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও মনসুর নোমানের রয়েছে সক্রিয় ও বহুমাত্রিক সম্পৃক্ততা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে আসছেন।






