বাংলাদেশ, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ইং ,

শিরোনাম

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম


প্রকাশের সময় :12 October, 2026 12:47 : PM

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের চুক্তির প্রত্যাশায় সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। মস্কোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ঘোষণা আসার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ১ দশনিক ৪৭ শতাংশ বা ১ দশমিক ৫৪ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল ১০৩ দশমিক ১৮ ডলারে নেমে এসেছে। আবার, ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ বা ১ দশমিক ৫৪ ডলার কমে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আইসিই গ্যাসঅয়েল ফিউচার্স ৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ডলারে নেমেছে ১ হাজার ৪৩৬।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার ঘোষণা করেন যে, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি (২ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ব্যারেল) ডিজেল সরবরাহ করবে। এছাড়া নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে দ্রুত আরও ১ মিলিয়ন টন ডিজেল সরবরাহ করবে মস্কো। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিদিনের ডিজেল ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় ২৯ মিলিয়ন ব্যারেল।

রোববার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে ঘোষণা করেন যে, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যার ফলে তারা একে অপরের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো থেকে বিরত থাকবে। তবে ইউক্রেনীয় নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে তিনি এই যুদ্ধবিরতির বিস্তারিত দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন, এবং রাশিয়া এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, এই ঘোষণাগুলো তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট কিছুটা কমিয়ে এনেছে। তবে এই ধরনের যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এটি কতখানি টিকবে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলে দাম কমার এই প্রবণতা সীমিত থাকতে পারে।

জ্বালানি সরবরাহের এই আশাবাদের মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের উপরে অবস্থান করছে। গোল্ডম্যান স্যাক্স ও ড্যান স্ট্রুইভেনের নেতৃত্বে বিশ্লেষক দল জানিয়েছে, তারা ডিসেম্বরের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দামের পূর্বাভাস আগের প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯০ ডলারে উন্নীত করেছে।

বিশ্লেষকরা তাদের নোটে উল্লেখ করেন, আমাদের মূল ধারণা হলো—মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির সাথে দীর্ঘমেয়াদি মানিয়ে নেওয়ার ফলে একসময় অপরিশোধিত তেলের দাম কমবে, তবে সংঘাতের সম্ভাব্য নতুন অবনতি এখনো বাজারের ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক ঝুঁকি তৈরি করছে।

রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ড্রোন হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় তেলের বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

ট্যাগ :