তানভীর আহমেদ (বিশেষ প্রতিনিধি):
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
সিসিটিভি নজরদারি, দর্শনার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত, গুজব প্রতিরোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) হাটহাজারী উপজেলার ফটিকা সর্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার চট্টগ্রামে মোট ২ হাজার ৫৯৩টি স্থানে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে মহানগরে ২৭১টি এবং ১৫টি উপজেলায় ২ হাজার ৩২২টি। মোট আয়োজনের মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি সর্বজনীন পূজা ও ৬৮৪টি ঘটপূজা।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় গঠন করা হয়েছে মনিটরিং গ্রুপ।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু মণ্ডপের সাজসজ্জা নয়, দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে এসে আরতিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, আয়োজকেরা হয়তো এক মাস পরিশ্রম করে একটি অনুষ্ঠান সাজান। কিন্তু অনেক দর্শনার্থী এক বছর ধরে সেই অনুষ্ঠান দেখার অপেক্ষায় থাকেন। তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে আয়োজনের সার্থকতা থাকে না।
সরকারি সহায়তার বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি করে বাড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রেইনবো নেশন ধারণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক সময় এক এলাকার ঘটনার ছবি বা ভিডিও অন্য এলাকার ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হয়। তাই কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।






