নিউজ ডেস্ক :
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয় গণমাধ্যমকে। শুধু রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে আমি ছোট করতে চাই না। আমি বলব একটা রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং প্রতিটা ক্ষেত্রে অন্যতম যে স্তম্ভ, সেটা হচ্ছে সাংবাদিকতা।
সাংবাদিকরা এমন একটি পেশার সাথে যুক্ত আছেন, যেখানে তারা রাষ্ট্রের সমস্যা জনগণের কাছে তুলে ধরছেন, আবার জনগণের সমস্যাগুলো রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরছেন। এই একটা চমৎকার ভারসাম্য নিশ্চিত করার সুযোগটি একমাত্র সাংবাদিকদের হাতেই রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কামরুল কায়েস চৌধুরী এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিএমইউজে) সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক মো. রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহ।
কামরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, আমরা দেখেছি সেই আন্দোলনের সময় অনেক মিডিয়া, অনেক চ্যানেল মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছিল। কিন্তু তখনও কিছু মিডিয়া সত্যের পক্ষে, ছাত্রদের পক্ষে এবং ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছিল বলেই সেদিন গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। আপনারা কিছু মিডিয়া সেদিন সাহস দিয়েছিলেন, যারা পথে আন্দোলন করছিল তাদের পক্ষে হয়ে, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে। এই জন্যই কিন্তু আজকে আমরা এভাবে সবাই এক জায়গায় আছি—বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতাদর্শের, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের।
তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ার জীবনে শুধু বিজনেসের পেছনে লেগে থাকিনি। আমার প্রত্যেকটা কাজ ছিল শিক্ষার পেছনে। আমি আইটি সেক্টর নিয়ে কাজ করছি। শুধু চট্টগ্রামে মিনিমাম ৮ থেকে ১০ হাজার ছেলেমেয়েকে আমি আইটির উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। এবং সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার ছেলেমেয়েকে আমি আইটির উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। এবং সেই লক্ষ্যে আমি কাজ করেছি।
পিস ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান বলেন, জিএমআইটি শুধু চট্টগ্রাম নয়, বাংলাদেশের ওয়ান অ্যান্ড অনলি প্ল্যাটফর্ম যে প্ল্যাটফর্মটি হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়। আমরা একেবারে গ্রাসরুট লেভেল থেকে শিক্ষা দেই। আমি দুটি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি, যেখানে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লিট করেছে ইতোমধ্যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী। আমার প্রতিটি কাজ ছিল কিভাবে এই জনগণের, এই চট্টগ্রামের মানুষের সেবা দেওয়া যায়।
আইটি সেক্টরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অনেক পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমি চট্টগ্রামবাসীকে আইটি শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য ব্যাপক কাজ করছি। আমি এভাবে বলতে চাই, ইনশাআল্লাহ আগামী ২ থেকে ৩ বছরে এমন এক দৃশ্য দেখাব ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম কোনো অংশে পিছিয়ে থাকবে না আইটি সেক্টরে।
প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, কায়েস চৌধুরী একজন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তিনি মানবাধিকারের সাথে কাজ করেন। মানবাধিকার ছাড়াও তিনি আইটি সেক্টর সহ শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক কাজ করেন। আমরা মনে করি, ক্লাবের উন্নয়নে তিনি আমাদের পাশে থাকবেন।
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, ক্লাবের সিনিয়র সদস্য মাহবুব মাওলা রিপন, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, ক্লিক নিউজ বিডির সম্পাদক জালাল উদ্দিন সাগর, দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার আহমেদ মুসা এবং দৈনিক সংবাদ সারাবেলার ব্যুরো প্রধান তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে সম্মানিত অতিথি হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ।






