বাংলাদেশ, রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ইং ,

শিরোনাম

মালেশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত, যুক্ত থাকবে ৩৩৮টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি


প্রকাশের সময় :17 October, 2026 1:32 : PM

স্টাফ রিপোর্টার :

নতুন ব্যবস্থায় ৩৩৮টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা যাবে। একই সঙ্গে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতার পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ৩৩৮টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা যাবে। একই সঙ্গে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে মালয়েশিয়া। তালিকায় রয়েছে সরকারি রিক্রুটিং সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি।

নতুন ব্যবস্থায় আগ্রহী কর্মীরা তালিকাভুক্ত এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যও ব্যবহার করতে হবে অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার। তবে কোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। কর্মীদের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ অভিবাসনপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগব্যবস্থায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ রাখার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২ খ্রিস্টাব্দের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। পরবর্তী আলোচনার ধারাবাহিকতায় নতুন নিয়োগব্যবস্থা কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার অনুমোদিত এজেন্সিগুলো প্রথমে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচন করবে। এরপর কলিং ভিসা, ই-ভিসাসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি সহযোগিতা করবে।

মালয়েশিয়ায় নিয়োগের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশের আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। প্রতিটি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের অধীনে কর্মীদের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বোয়েসেল ও ২৫টি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে পারবে।

কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের যেন অতিরিক্ত আর্থিক চাপ বহন করতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আইন মেনে কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টারের নতুন তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ এখনো চলছে। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে এ তালিকা চূড়ান্ত করবে।

শ্রমবাজার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার আগে থেকেই বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করার পর নতুন তালিকার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

তালিকা চূড়ান্ত করতে সময় লাগতে পারে বলে আপাতত মালয়েশিয়া সরকারের অনুমোদিত বিদ্যমান তালিকা থেকে বিতর্কিত ও অনিয়মে জড়িত মেডিক্যাল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে বাকি সেন্টারগুলোর মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পাশাপাশি নতুন নীতিমালার আলোকে মেডিক্যাল সেন্টারগুলো যাচাই-বাছাই করতে যত দ্রুত সম্ভব মালয়েশিয়ার তিন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে। মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পর্যায়ক্রমে নতুন মেডিক্যাল সেন্টার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংশোধিত তালিকা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট ও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

নতুন ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ট্যাগ :