বাংলাদেশ, রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ইং ,

শিরোনাম

ডেঙ্গু দমনে মাঠে চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ, তিন মাসের আগেই সংক্রমণ শূন্যের কৌটায় নামানোর আশা


প্রকাশের সময় :10 October, 2026 4:11 : PM

তানভীর আহমেদ (বিশেষ প্রতিনিধি):

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীর পর এবার হাটহাজারীতে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি নিজেই ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ ছিটিয়েছেন তিনি। চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত তিন মাসের আগেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক।

শনিবার (১০ অক্টোবর) হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৫টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে সচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসক ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ প্রয়োগ করেন। এ সময় এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে লার্ভিসাইডও ছিটানো হয়।
হাটহাজারীর কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, অক্টোবর মাসে তা অনেকটাই কমেছে। ডেঙ্গুতে প্রাণহানিও কমেছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ডে ৭ দিনের বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। ওই কর্মসূচিতে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সাতটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অভিযানের জন্য সংগ্রহ করা হয় ১৬টি ফগার মেশিন ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক। জেলা প্রশাসক নিজেও মশকনিধন ও নালা পরিষ্কারের কাজে অংশ নেন।

পরে ৩ অক্টোবর কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে অংশ নেন তিনি। সৈন্যারটেক থেকে ব্রিজঘাট পর্যন্ত সচেতনতামূলক র‍্যালি শেষে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় মশকনিধন অভিযানের উদ্বোধন করেন। ওই দিন উপজেলার ১০টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে গত ২৫ জুলাই থেকে জেলাজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনা থেকে অপসারণ করা হয় প্রায় ১৩৫ টন বর্জ্য। পরবর্তী সময়ে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন জলাশয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি। এর আওতায় জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে।
ডেঙ্গুতে প্রাণহানির বিষয়ে জেলা প্রশাসক এর আগে জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল।

সীতাকুণ্ডে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনার পর এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডেঙ্গুতে প্রাণহানি রোধের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা চাই না, আমাদের কোনো একটা প্রাণ এভাবে হারিয়ে যাক, কোনো একটা বাতি এভাবে নিভে যাক। কারণ, আমাদের এই বাতিগুলো আমাদের আলোকিত করবে। একদিন বিশ্বমঞ্চে আমাদের নিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, কোনো একজন ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মানুষের স্বাস্থ্য, চিন্তা ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মসূচিতে তরুণদের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি সমাজের ইতিবাচক উদ্যোগগুলো তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যা নির্ধারণ এবং পরীক্ষার কিট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

হাটহাজারীর কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

ট্যাগ :