
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং প্রকৌশলীদের প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠান উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ( ৬ মে) সকালে ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি আগামী ৮ মে সমাপ্তি হবে। এতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এবারের ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’তে মূল স্লোগান নির্ধারণ করেছে ” প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বির্নিমানে ও টেকসই উন্নয়ন প্রকৌশলীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য “।
সংগঠনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম এর সভাপতিত্বে ও সম্মানী সম্পাদক প্রকৌশলী খান মো. আমিনুর রহমান এর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রকৌশলী মো. নুরুল আলম, এস এম শাহজালাল, আব্দুল্লাহ আযম, আবু জাফর সহ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য, কাউন্সিল সদস্য, ইআরসি’র নেতৃবৃন্দ ও সিনিয়র প্রকৌশলীবৃন্দ। সভায় বক্তারা বলেন, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের সব সেক্টরে প্রকৌশলীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ভাজে প্রকৌশলীরা ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে।
এসময় সংগঠনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম তার লিখিত বক্তব্যে নিম্নোক্ত দাবি সমূহ উপস্থাপন করেন এবং
সমস্যা চিহ্নিত করে প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরসন করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত
করার লক্ষ্যে, আইইবি নিম্মোক্ত বিষয়াদির উপরে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়-
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা: দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকট নিরসনে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা, লোডশেডিং কমাতে আমদানী নির্ভরতা হ্রাস করা, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি করা, দেশীয় জ্বালানী অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা জ্বালানী খাত সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা করা, প্রস্তাবিত দ্বিতীয় রিফাইনারী স্থাপন করা, ইতিমধ্যে স্থাপিত এস পি এম প্রকল্প চালু করার ব্যবস্থা করা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশন করা, ভার্চুয়াল পোর্ট প্রযুক্তির ব্যবহার, অভ্যন্তরীণ নৌ-পথ ও টার্মিনাল উন্নয়ন করা, নিরাপত্তা ও শৃংখলা ব্যবস্থা আনয়ন করা,
কনটেইনার জট, শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন করা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও অচলাবস্থা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ।
চট্টগ্রাম ওয়াসা ভুগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে নদী ভিত্তিক পানি শোধন প্রকল্প, খাল পুনঃ খনন ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের উপর জোর দেয়ার দাবিতে রয়েছে, এ সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা, পাম্পের পানির উপর নির্ভরতা হ্রাস করা, চলমান মেগা প্রকল্পের ধীর গতি ও সমন্বয়হীনতা নিরসন করা। অবকাঠামো নির্মানে ত্রুটি চিহ্নিতকরণ, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য: দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা, বাস্তব সম্মত সমীক্ষা গ্রহণ করা, নির্মাণ কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করা ও জনভোগান্তি হ্রাস করা।
সেতু, কালভার্ট ও টানেল নির্মানের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা:
কাঠামোগত দুর্বলতা হ্রাস করা, অপরিকল্পিত নকশা চিহ্নিত করা, মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় কঠোরতা আরোপ করা, অবকাঠামোগত পরিবীক্ষণ করা ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস করা।
বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে করণীয়:
ক্লাস্টার তৈরীর মাধ্যমে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, স্পটগুলোর আধুনিকায়ন ও টেকসই অর্থনৈতিক খাতে রুপান্তর করার প্রচেষ্টা। হালকা, মাঝারি ও ভারী শিল্পের বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অভাব দুরকরণ, দক্ষ জন শক্তি তৈরীকরণ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবস্থা। এতে আরও দাবিসমূহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন তারা যেখানে বলা হয় – প্রকৌশলী সংস্থাসমূহের শীর্ষ পদগুলোতে প্রকৌশলী পদায়ন করতে হবে, প্রকৌশলীদের যথাযথ পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিতকরণ, ডিগ্রীধারী পলিটেকনিক্যাল শিক্ষকদের বর্তমান চাকুরী কাঠামো পরিবর্তন, বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থাসমূহকে বিসিএস ক্যাডারভুক্তকরণ, বেসরকারী প্রকৌশলীদের জন্য চাকুরী বিধি প্রণয়ন করতে হবে ও বিভিন্ন প্রকল্পে প্রজেক্ট ডাইরেক্টর হিসেবে প্রকৌশলীদের নিয়োগ ।
























