বাংলাদেশ, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ইং , ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বিকাল ৫:৫৬

বোয়ালখালী সদরে পাবলিক টয়লেটের অভাবে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ


প্রকাশের সময় :৬ মে, ২০২৬ ৯:০৮ : পূর্বাহ্ণ

বাবর মুনাফ, বোয়ালখালী প্রতিনিধি:


চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা সদরে দীর্ঘদিন ধরে পাবলিক টয়লেটের অভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পর্যাপ্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত পাবলিক টয়লেটের অভাবে চরম জনভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যা নারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্টকর। এর ফলে পথচারী ও শ্রমজীবীরা যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন, যা পরিবেশ দূষণ এবং কিডনিজনিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষের আনাগোনার এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেই কোনো কার্যকর টয়লেট ব্যবস্থা। উপজেলা সদর এলাকায় রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উপজেলা কার্যালয়, পৌরসভা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রেলওয়ে স্টেশন, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বিভিন্ন মার্কেট, বাজার— তবুও মৌলিক এই সেবার ঘাটতি রয়ে গেছে।

সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে আসা অভিভাবকদের কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হলেও টয়লেট সুবিধা না থাকায় পড়তে হয় চরম বিপাকে।

পশ্চিম কধুরখীল থেকে আসা জাহানারা বেগম বলেন, “আমরা নারী মানুষ—এত বড় উপজেলায় কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। পুরুষরা যেভাবে-সেভাবে ব্যবস্থা করতে পারে, কিন্তু আমাদের জন্য তা সম্ভব না।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি বলেন, “অভিভাবকরা আমাদের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। প্রশাসন উদ্যোগ নিলে সমাধান সম্ভব।”

পশ্চিম গোমদণ্ডী থেকে আসা মকবুল হোসেন বলেন, “নাতিকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছি। কয়েক ঘণ্টায় একাধিকবার টয়লেটের প্রয়োজন হয়, কিন্তু কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।”

দরপপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর চৌধুরী রানা জানান, আগে উপজেলা সদরে একটি পাবলিক টয়লেট ছিল, যা নতুন হলরুম নির্মাণের সময় ভেঙে ফেলা হয়েছে। এরপর আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগী ও স্বজনদেরও একই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

শ্রীপুর-খরণদ্বীপ এলাকার হোসনে আরা বলেন, “হাসপাতাল থেকে বের হয়েই টয়লেট দরকার ছিল, কিন্তু কোথাও পাইনি।”

মার্কেট এলাকার কর্মচারী তানভির হাসান বলেন, “মসজিদের টয়লেট নামাজের সময় ছাড়া খোলা থাকে না। তখন আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়।”

পোপাদিয়ার বাসিন্দা এস এম মোদ্দাচ্ছের বলেন, “এখানে সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবে না। এত জনপ্রতিনিধি আসেন-যান, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং জনসাধারণের সুবিধার্থে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ট্যাগ :