
ক্রীড়া প্রতিবেদক:
দাবা খেলে বিশ্ব দরবারে লাল-সবুজের বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চান মহিলা বিভাগে চট্টগ্রাম চ্যাম্পিয়ন উমনিয়া বিনতে ইউসুফ লুবাবা। নগরীর সিটি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া লুবাবা অনেকটা স্রোতের বিপরীতে একাই লড়ছেন, নেই কোন স্পন্সর, নেই নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ, তারপরও তাঁর স্বপ্নের পরিধি বিস্তৃত। হতে চান দেশের প্রথম নারী গ্র্যান্ড মাস্টার। তাঁর স্বপ্ন ডানা মেলেছে অনেক আগেই।
গেলো ১০ বা তারও বেশি বছরে সময়ে চট্টগ্রামের তৃতীয় টাইটেল প্লেয়ার লুবাবা মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে চলতি মাসের ৭ থেকে ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের অনূর্ধ্ব-১৮ ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় আক্ষেপ, কারণ লুবাবার প্রত্যাশায় ছিল স্বর্ণ পদক। চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ পেলেও স্পন্সর সংকটে বিপাকে পড়েন লুবাবা। চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস) ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কিছু সহযোগিতা নিয়ে তিনি মালয়েশিয়া থেকে ব্রোঞ্জ নিয়ে ফিরেন। এজন্য লুবাবা সিজেকেএস’সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নগরীর মুরাদপুর নিবাসী মো. ইউসুফ ও খাদিজাতুল কোবরার তিন সন্তানের দ্বিতীয় লুবাবা লেখাপড়ার পাশপাশি দাবায় দারুণ মনযোগী। লুবাবা বলেন, ‘গ্র্যান্ড মাস্টার হতে হলে আমাকে দেশে ও দেশের বাইরে নিয়মিত রেটিং টুর্নামেন্ট (বর্তমান পয়েন্ট ১৮২৪) খেলতে হবে। এজন্য অর্থের পাশাপাশি প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তিরও। কোন প্রতিষ্ঠান স্পন্সর নিয়ে এগিয়ে এলে আমি দাবায় নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাবো।’
২০২২-এ দাবা অলিম্পিয়াডে অনূর্ধ্ব-১৬ তে খেলার আগে ২০১৮-তে বাংলাদেশ যুব গেমসে ব্রোঞ্জ, গেমসের ২০২৩ আসরে স্বর্ণপদক, একই বছর মহিলা প্রার্থী মাস্টার টাইটেল অর্জনসহ লুবাবার ভান্ডারে জমা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহিলা দাবায় তিনটি চ্যাম্পিয়ন টাইটেল ও চলতি বছর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ যুব দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় স্থান অর্জন। এর সাথে এবার যুক্ত হলো কমনওয়েলথ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের অনূর্ধ্ব-১৮ শ্রেণিতে তৃতীয় স্থানের মতো আন্তর্জাতিক অর্জন।
প্রসঙ্গত: দেশে পাঁচজন পুরুষ গ্র্যান্ডমাস্টার আছেন। তাঁরা হলেন নিয়াজ মোর্শেদ, জিয়াউর রহমান, আবদুল্লাহ আল রাকিব, এনামুল হোসেন ও রিফাত বিন সাত্তার। কোনো নারী দাবাড়– এখন পর্যন্ত এই খেতাব জিততে পারেননি। তবে রানী হামিদ দেশের প্রথম মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার এবং ওয়াসরিয়া খুশবু, নোশিন, ওয়ালিজা আহমেদ ও ওয়াদিফা আহমেদ’র মতো প্রতিভারা মহিলা আন্তর্জাতিক মাস্টার বা মহিলা ফিদে মাস্টারের মতো খেতাব অর্জন করেছেন।
























