
মো: হাসান মুরাদ :
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাধারণ নাগরিকরা বিশ্বজুড়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্বৈরতন্ত্রের উত্থান লক্ষ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই ভাবতেন ক্ষমতার মোকাবিলা কেবল একই রকম শক্তি দিয়েই সম্ভব। অর্থাৎ, ক্ষমতায় জাঁকিয়ে বসা পপুলিস্ট একনায়কদের পরাজিত করতে সমান ক্যারিশম্যাটিক ও একজন বিরোধী নেতার প্রয়োজন। ২০২৬ সালের অক্টোবরে সার্বিয়ার রাজনৈতিক দৃশ্যপট এবং ক্ষমতা পরিবর্তন সেই পুরোনো ধারণাকে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে।
রোববার জাতীয় নির্বাচনের পর বেলগ্রেডের রাজপথে সাধারণ মানুষ নেচে-গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছে। নোভি সাদ শহরে কয়েক দশকের পুরোনো উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রতীকগুলো মানুষ টেনে নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের শক্তিশালী ক্ষমতাসীন প্রশাসনিক কাঠামো অভাবনীয় পরাজয়ের মুখে পড়েছে। এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের মূল রূপকার কোনো উদারপন্থী জোট বা জনপ্রিয় একক নেতা ছিলেন না।
আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি ছিল ছাত্র তালিকা (স্টুডেন্টসকা লিস্তা)। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণপরিষদ, পরিবেশবাদী আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল এই নেতৃত্বহীন নির্বাচনী মঞ্চ।
২৫ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক গণনায় ছাত্র তালিকা সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। সার্বিয়ার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে জরুরি প্রশ্ন তুলে ধরেছে। রাজপথের ব্যারিকেড থেকে শুরু হওয়া নেতৃত্বহীন বিপ্লব কি সরাসরি সংসদীয় শাসনক্ষমতায় রূপান্তরিত হতে পারে? একবিংশ শতাব্দীতে গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সার্বিয়া কি এক নতুন পথ দেখাল?
ট্র্যাজেডি, সম্পদ লুণ্ঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্ত সংসদ :
প্রথাগত রাজনৈতিক পদক্রম ছাড়াই কীভাবে একটি আন্দোলন স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যেতে পারল? তা বোঝার জন্য আগের ধারাবাহিক সংকটগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। এই আন্দোলনের সূচনা ২০২৪ সালের নভেম্বরে। নোভি সাদ রেলওয়ে স্টেশনের সংস্কার করা কংক্রিটের ছাদ ধসে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই ট্র্যাজেডি সার্বিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলা, সরকারি কেনাকাটায় লাগামহীন দুর্নীতি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন চুক্তির চরম অস্বচ্ছতাকে প্রকাশ্যে এনে দেয়।
ছাত্র ও নাগরিক কর্মীরা যখন পূর্ণ জবাবদিহির জন্য রাস্তায় নামেন। সরকার তখন দমনপীড়ন দিয়ে জবাব দেয়। পুলিশি অভিযান, ক্ষমতাসীন দলের সাজানো পাল্টা বিক্ষোভ এবং পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে ছাত্র সংগঠক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ওপর নজরদারি চালানো হয়।
অসন্তোষের শেকড় ছিল আরও গভীরে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য সস্তায় প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠনের চারণভূমি হয়ে উঠছিল সার্বিয়া। খনি জায়ান্ট রিও টিন্টোর বিতর্কিত জাদার লিথিয়াম প্রকল্প এই শোষণের প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়েছিল। একাডেমিক গবেষক আলেকসান্দার মাতকোভিচের মতো বিশ্লেষকরা লিথিয়াম প্রকল্পের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রকাশ করেছিলেন। মাতকোভিচ ও তাঁর সহকর্মীদের সরাসরি হত্যার হুমকি ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মুখে পড়তে হয়। পরিবেশকর্মী ও স্বাধীন গবেষকরা অভিযোগ তোলেন ভুচিচের সরকার সার্বিয়াকে অর্থনৈতিক ধসের প্রান্তে এনেছে। সাধারণ মানুষ ও পরিবেশ ধ্বংস করে বিদেশি পুঁজির স্বার্থ হাসিল করাই ছিল সরকারের মূল লক্ষ্য।
বেলগ্রেডের স্লাভিয়া স্কয়ারে জনতার মহাসমুদ্র: ড্রোন ক্যামেরায় ধরা পড়া ছাত্র তালিকা সমর্থকদের বাঁধভাঙা বিজয়োল্লাস। এক্স থেকে নেওয়া
বেলগ্রেডের স্লাভিয়া স্কয়ারে জনতার মহাসমুদ্র: ড্রোন ক্যামেরায় ধরা পড়া ছাত্র তালিকা সমর্থকদের বাঁধভাঙা বিজয়োল্লাস। এক্স থেকে নেওয়া
ভাঙাচোরা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পেছনে না ছুটে ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বেলগ্রেড ও নোভি সাদের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদগুলো অবরুদ্ধ করে ফেলে। অবরুদ্ধ এই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে অনন্য কৌশলের জন্ম হয়। সেখানে নিয়মিত গণতান্ত্রিক সাধারণ সভা (প্লেনারি) বসত। কয়েক মাস ধরে শিক্ষার্থীরা অর্থনৈতিক মডেল, পরিবেশ নীতি, গণমাধ্যমের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক চালায়। সংগঠন তৈরির আগেই তাত্ত্বিক জ্ঞান ও যৌথ আলোচনার ভিত তৈরি হয়েছিল।
শিক্ষার্থীরা যখন নির্বাচনী রাজনীতিতে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তারা কোনো চেনা রাজনৈতিক দল তৈরি করেনি। তারা সমাজের কাছে দায়বদ্ধ নাগরিক প্রতিনিধি দল গঠন করে।
নেতা ছাড়াই আন্দোলন
আধুনিক ইতিহাসের যেকোনো স্বৈরাচারী ও মিশ্র শাসনব্যবস্থা সবসময় নির্দিষ্ট কৌশলে বিরোধীদের দমন করে। তারা বিরোধী দলের প্রধান মুখকে চিহ্নিত করে। এরপর সরকারের অনুগত গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ওই নেতার ব্যক্তিগত চরিত্রে দাগ লাগিয়ে দেয়। কখনো মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে তাকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
সার্বিয়ার ছাত্র আন্দোলন আক্রমণ করার মতো কোনো একক নেতাকে সামনে না রেখে সরকারের ওই পুরোনো দমননীতিকে পুরোপুরি অকেজো করে দিয়েছিল।
আন্দোলনে টালমাটাল সার্বিয়া, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে কতটা মিলেস্ট্রিম গ্রাফিক
২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ২৫০ সদস্যের নাগরিক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সেখানে কাউকে দলীয় সভাপতি বা প্রধান নেতা ঘোষণা করা হয়নি। গবেষক, শিক্ষাবিদ, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক ও তৃণমূল সংগঠকদের নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়। নির্বাচিত প্রার্থীদের ১৩৪ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী এবং ৪৪ শতাংশ নারী। অহংকারবিরোধী নীতি (অ্যান্টি-ইগো প্রিন্সিপাল) গ্রহণ করে আন্দোলনকারীরা সিদ্ধান্ত নেন কোনো ছাত্রনেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। আন্দোলনের মূল ছাত্র সংগঠকরাও নিজেরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে অস্বীকৃতি জানান। ব্যক্তিগত ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে থাকায় তাদের নৈতিক অবস্থান শতভাগ অটুট থাকে। সরকারের প্রচারযন্ত্র আক্রমণ করার মতো কোনো দৃশ্যমান প্রতিপক্ষ খুঁজে না পেয়ে ফাঁকা বাতাসে হাতড়াতে থাকে।
বিরোধীদের বিদেশি অর্থে পরিচালিত ষড়যন্ত্রকারী বা পরিবেশ সন্ত্রাসী বলে সরকারের দেওয়া পুরোনো তকমা কোনো কাজে আসেনি। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গ্রামীণ সমাজের সমন্বয়ে গঠিত এই দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ধোপে টেকেনি।
আন্দোলন থেকে ক্ষমতার রূপান্তর ও ঐতিহাসিক শিক্ষা :
নেতৃত্বহীন প্রতিরোধের ঘটনা ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। বিগত দুই দশকে আরব বসন্ত, অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট, স্পেনের ইন্দিগনাদোস আন্দোলন, হংকংয়ের বি ওয়াটার বিক্ষোভ এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্রদের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে। এই আন্দোলনগুলো প্রমাণ করেছে কোনো একক নেতা ছাড়াও লাখ লাখ মানুষকে স্বৈরাচার ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে রাজপথে নামানো সম্ভব।
ঐতিহাসিকভাবে বেশিরভাগ নেতৃত্বহীন আন্দোলন ‘আন্দোলন থেকে ক্ষমতায় যাওয়ার ফাঁদে’ পড়ে শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়েছে। রাস্তা অবরোধ ও পুলিশি দমন এড়াতে এই কৌশল সফল হলেও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার মুখোমুখি দাঁড়াতে গিয়ে তারা বড় সংকটে পড়ে। দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ মতে, এই পরিস্থিতিতে যে মূল দুটি সমস্যা সামনে আসে তা হলো—শূন্যতার সংকট: কোনো স্বৈরশাসক ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হলে সেই রাজনৈতিক শূন্যতায় সুযোগসন্ধানী রাজনীতিক, অনুগত সামরিক বাহিনী কিংবা পুরোনো ধনিক দলগুলো ক্ষমতা দখল করে বসে। আনুষ্ঠানিক রাজনীতি বর্জন: সম্পূর্ণ অনুভূমিক কাঠামোর আন্দোলনগুলো প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচনী রাজনীতিকে বর্জন করে থাকে। এর ফলে রাষ্ট্রের মূল ক্ষমতা পুরোনো শাসকগোষ্ঠীর হাতেই বহাল থেকে যায়।
রাজপথ কাঁপিয়ে স্বৈরতন্ত্র হটালেও ক্ষমতার লড়াই থেকে দূরে থেকেছেন সার্বিয়ার তরুণরা। এক্স থেকে নেওয়া
রাজপথ কাঁপিয়ে স্বৈরতন্ত্র হটালেও ক্ষমতার লড়াই থেকে দূরে থেকেছেন সার্বিয়ার তরুণরা। এক্স থেকে নেওয়া
সার্বিয়ার ২০২৬ সালের অভিজ্ঞতা পূর্ববর্তী ইতিহাসের বড় যুগান্তকারী বিবর্তন। তারা খুব ভালো করেই বুঝতে পেরেছিল কেবল রাজপথের বিক্ষোভ দিয়ে দীর্ঘদিনের শিকড় গাড়া স্বৈরতন্ত্রের মূল উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। তারা নির্বাচন বর্জন করেনি কিংবা দুর্নীতির সুযোগ থাকা কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দলও গঠন করেনি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিষদকে জাতীয় নির্বাচনী শক্তিতে রূপান্তরিত করেছে। রাজপথের নৈতিক শক্তিকে তারা জাতীয় নির্বাচনের সাংবিধানিক কাঠামোর সাথে সফলভাবে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
নেতৃত্বহীন ব্যবস্থা কি রাষ্ট্র চালাতে পারবে?
নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় অর্জন করলেও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এই আন্দোলনকে কাঠামোগত পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। প্রথম সংকট হলো নির্বাহী সিদ্ধান্তের বাধ্যবাধকতা। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় সরকার চালাতে প্রধানমন্ত্রী, নির্দিষ্ট মন্ত্রিসভা এবং সুস্পষ্ট প্রশাসনিক পদক্রমের প্রয়োজন হয়। মন্ত্রণালয় পরিচালনা কিংবা আন্তর্জাতিক কূটনীতির কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাধারণ সভার ভোটের অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনার জটিল আমলাতান্ত্রিক কাজের মাঝে ছাত্র তালিকা তাদের যৌথ স্বশাসনের নীতি কতটা ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
দ্বিতীয় সংকট হলো মতাদর্শের গভীর বৈচিত্র্য। দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পরিবেশ রক্ষার মতো মৌলিক ইস্যুতে এক হয়ে এই নাগরিক তালিকা জয় পেয়েছিল। বিজয়ী দলের ভেতরে পরিবেশবাদী বামপন্থী, সমাজতন্ত্রী, মধ্যপন্থী উদারবাদী এবং ঐতিহ্যবাহী ডানপন্থী কনজারভেটিভ মতাদর্শের মানুষ রয়েছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া, মস্কো ও বেইজিংয়ের সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য এবং বলকান অঞ্চলের সংবেদনশীল চুক্তিগুলো নিয়ে মতভেদ তৈরি হলে এই জোটের ঐক্য বড় পরীক্ষার মুখে পড়বে।
তৃতীয় সংকট হলো প্রশাসনের গভীরে প্রোথিত পুরোনো শাসনব্যবস্থা। নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করার অর্থ এই নয় যে স্বৈরশাসকের দীর্ঘদিনের সাজানো বলয় এক রাতে ভেঙে যাবে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা সংস্থা এবং স্থানীয় সরকারগুলোতে পুরোনো সরকারের অনুগতরা এখনো শক্ত অবস্থানে বসে আছে। নতুন আইনপ্রণেতাদের প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতা, আমলাতান্ত্রিক অন্তর্ঘাত এবং আগে থেকে সই হওয়া বহুজাতিক চুক্তির আইনি চাপ সামলাতে হবে।
তবে নানামুখী চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও সার্বিয়ার এই জয় বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাঁক।
বেলগ্রেডের রাজপথে ছাত্র তালিকা—ছাত্রদের জয়-এর সমর্থকদের উল্লাস। এক্স থেকে নেওয়া
বেলগ্রেডের রাজপথে ছাত্র তালিকা—ছাত্রদের জয়-এর সমর্থকদের উল্লাস। এক্স থেকে নেওয়া
ইতিহাসবিদ অ্যাডাম টুজ বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিকে বহুমুখী সংকট বলে আখ্যা দিয়েছেন। জলবায়ুর বিপর্যয়, জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী খরচ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভাঙন এবং গণতন্ত্রের বৈশ্বিক পতনের যুগে প্রথাগত দলগুলোর রাজনীতি ব্যর্থ প্রমাণিত হচ্ছে। ইউরোপের শহরগুলোতে তরুণরা প্রচলিত উদারপন্থী দলগুলোকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও আপসকামী মনে করছে। ডানপন্থী পপুলিস্টরা সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বৈরাচারী ক্ষমতা পোক্ত করছে।
বেলগ্রেডের এই আন্দোলন বিশ্বকে বাস্তববাদী তৃতীয় পথের সন্ধান দিয়েছে। প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য অতিমানবীয় রাজনৈতিক ত্রাতার অপেক্ষায় বসে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই। বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ, স্থানীয় মুক্ত সংসদ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকেরাও ক্ষমতাবান নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রকে ব্যালট বাক্সে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে।
সার্বিয়ার ছাত্র তালিকা বিকেন্দ্রীভূত সরকার পরিচালনার সফল মডেল গড়ে তুলতে পারবে কি না, তা ভবিষ্যৎ বলে দেবে। সাধারণ নাগরিকদের সুশৃঙ্খল কাফেলা যে বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বৈরতন্ত্রকে ব্যালটে পরাজিত করতে পারে, সার্বিয়া তা বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে দিয়েছে। বেলগ্রেডের রাজপথ থেকে পাওয়া এই শিক্ষা আগামী বহু বছর ধরে বিশ্বের চিন্তাবিদ ও মুক্তিকামী আন্দোলনকারীদের পথ দেখাবে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স এবং আল-জাজিরা