
তানভীর আহমেদ (বিশেষ প্রতিনিধি):
শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকৃত শিক্ষক হয়ে উঠতে হলে শুধু পাঠ্যবই পড়ানো নয়, বরং নিজের জ্ঞান, যোগ্যতা ও আচরণের মাধ্যমে তাদের শ্রদ্ধা অর্জন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, পদমর্যাদা দিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা আদায় করা যায় না; বরং নিজের ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধের মাধ্যমে তাদের কাছে অনুসরণীয় হয়ে উঠতে হবে।
১৭ অক্টোবর শনিবার চট্টগ্রামে নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
শিক্ষকতার প্রকৃত অর্থ তুলে ধরে জাহিদুল ইসলাম বলেন, বই তো এখন ইন্টারনেটেও পড়া যায়। আপনি শুধু যদি বই পড়ান আর বইয়ের পড়া নেন, তাহলে প্রকৃত শিক্ষক হিসেবে আপনি সার্থক হলেন কি না, সেটি বলা যায় না। শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষকের জ্ঞান, মেধা ও আচরণকে সম্মান করবে এবং তাঁকে অনুসরণ করবে, তখনই শিক্ষকতা সার্থক হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়ভীতির পরিবর্তে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ভয়ের মাধ্যমে প্রকৃত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে হবে। অন্যথায় দক্ষ, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলা কঠিন হবে।
শিক্ষার লক্ষ্য শুধু ডিগ্রি অর্জন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ অর্জন করেও কেউ যদি দেশপ্রেম, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও দেশের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে সেই শিক্ষার সুফল দেশ ও সমাজ পাবে না।
শিক্ষকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনেক শিক্ষককে চলে যেতে হয়েছে, যা দুঃখজনক। শিক্ষার্থীদের আস্থা ও সম্মান অর্জনে শিক্ষকদের নিজেদের যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব ও আচরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান প্রজন্ম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষকদেরও নিয়মিত নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা হালনাগাদ করতে হবে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা কঠিন হবে।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি দাবি করেন, শতভাগ স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে লটারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কর্মস্থল ও সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতাকে দায়িত্ব পালনের অন্তরায় না করার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আমি দেশকে কতটুকু দিলাম, কী অবদান রাখলাম, রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে যে সেবা গ্রহণ করছি, তার বিপরীতে রাষ্ট্রকে কী দিলাম এই প্রশ্ন নিজেকে করতে হবে।
মানবিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শুধু নির্দেশনা দিয়ে কাউকে মানবিক করা যায় না। নিজেদের আচরণ ও মূল্যবোধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলবেন বলে আশা প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক।