
বাবর মুনাফ (বোয়ালখালী প্রতিনিধি):
শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে দক্ষিণ সারোয়াতলী দেশবন্ধু সংসদ সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরের ৭৬ বছর শারদ উৎসব উদযাপন করা হয়েছে।
পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে দেবী দুর্গার আরাধনা, বর্ণিল সাজসজ্জা ও ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয় শারদীয় উৎসব।
বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য ছিল দেবীর মাতৃমুখ উন্মোচন, নতুন কমিটির অভিষেক, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, বিদায় সংবর্ধনা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক ও নৃত্যনুষ্ঠান এবং মহাপ্রসাদ বিতরণ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের দক্ষিণ সারোয়াতলী ৮নং ওয়ার্ড চৌধুরী দিঘীর পাড় দেশবন্ধু সংসদ সর্বজনীন দুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে মন্দির পরিচালনা কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় শারদ মঞ্চে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় মন্দির পরিচালনা কমিটির সিনিয়র উপদেষ্টা সমর কৃষ্ণ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাবেক সভাপতি টিটু চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীপেন দাশগুপ্ত, বিশিষ্ট চিকিৎসক সীমান্ত ওয়াদ্দেদার, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সমাজসেবক সুপেন দাশ গুপ্ত, দৈনিক আগামীর সময়ের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার রমেন দাশগুপ্ত, বিএনপি নেতা শাহজাহান চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম তুহিন, ব্যাংকার ইসমাঈল হোসেন আংকুর, দুর্গা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী নুপুর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সুরেশ চৌধুরী, প্রকৌশলী সিঞ্চন ভৌমিক, রুবেল চৌধুরী, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রানা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক দীপক চৌধুরী অপু, সুমন চৌধুরী, টিসু চৌধুরী, ঝুলন চৌধুরী, সুমন চৌধুরী সাইমন, মিটু মজুমদারসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, দেবী দুর্গার আগমনে সমাজ থেকে সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর হোক। এই উৎসব আমাদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করুক। এই এলাকা যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। দুর্গাপূজার মূল বাণী হলো- অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ ও কল্যাণ শক্তির প্রতিষ্ঠা। সকল ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গোৎসব হোক শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ।
অতিথিরা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে মণ্ডপ পরিচালনা কমিটি, পূজার্থী ও ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঢাকের তালে, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তির আবেশে বিপুল সংখ্যক সনাতনী নারী, পুরুষ, শিশু, পূজার্থী ও দর্শনার্থীরা শারদ উৎসব উপভোগ করেন। বিজয়া দশমী পর্যন্ত চলবে এই উৎসব।