
এম.আর মিলন (বিশেষ প্রতিনিধি):
দি কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাত ও তছরুপের আশঙ্কায় সোসাইটির সদস্য মোহাম্মদ রায়হান উল্লাহর দায়ের করা এক মামলায় আদালত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোসাইটির সাধারণ সভা পরিচালনা ও অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ৫ম সিনিয়র সিভিল জজ চট্টগ্রাম সদর আদালতের বিচারক। গত ০৮.১০.২০২৬ ইং তারিখ এই আদেশ দেন। আদালত একইসাথে বাদী রায়হান উল্লাহর আবেদন মতে দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটিকে সভা পরিচালনা ও অনুষ্ঠান করার বিষযে কেন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে না, এই মর্মে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
মামলার আবেদনে রায়হান উল্লাহ জানান, দি চিটাগাং কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি বাংলাদেশের সমবায় আইন ২০০১ (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা ২০০৪ অনুযায়ী পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবস্থাপক পরষ্পর যোগসাজশে এসব আইনের তোয়াক্কা না করে বেআইনি ও বিধি বহির্ভুতভাবে কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন যা সমিতির আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মামলায় উক্ত ৩ জনকে বিবাদী করা হয়। এতে বলা হয়, গত ১৬.০৫.২০২৬ তারিখে সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা আহবাণ করা হলে তা পরে স্থগিত করা হয়। কিন্তু স্থগিতকৃত সভা পুনঃঅনুষ্ঠানের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে এবং সদস্যদের কোনো মতামত না নিয়ে পুনরায় লক্ষ টাকা অপচয়ের উদ্দেশ্যে ১০.১০.২০২৬ তারিখে আরেকটি সভা আহবাণ করা হয়। শুধু তাই নয়, সোসাইটির ওই ৩ কর্মকর্তার মাধ্যমে গত ২৩.০৯.২০২৬ তারিখে দৈনিক পূর্বকোণে প্রকাশিত নোটিশে জানা যায় যে, চিটাগাং ক্লাবে সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভা আহবাণ করা হয়েছে। কিন্তু উক্ত নোটিশে পূর্বে স্থগিত হওয়া সভার এজেণ্ডা ও আলোচ্য সূচির সাথে ব্যাপক গড়মিল দেখা যায়। যার ফলে সমিতির বিপুল অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। সোসাইটির সম্মানিত সদস্য রায়হান উল্লাহ অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, তার পক্ষ থেকে সোসাইটির ওই তিন কর্মকর্তাকে ১০.১০.২০২৬ তারিখের সভা বাতিল করে স্থগিত হওয়া সভা পুনঃঅনুষ্ঠানের জন্য গত ২৯.০৯.২০২৬ তারিখ লিখিত অনুরোধ জানানো সত্বেও তারা তা প্রত্যাখান করেন এবং অন্যায়ভাবে ওই সভা সম্পন্ন করার ব্যাপারে অনড় থাকেন।
সমবায় আইন ও উপ আইনের বিধান লঙ্ঘন করে নিয়মবহির্ভুতভাবে প্রচারিত ১০.১০.২০২৬ তারিখের নোটিশটি বে আইনী, এক্তিয়ার বহির্ভুত এবং সোসাইটির সদস্যদের তথা বাদীর স্বার্থবিরোধী। এর স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে সদস্য রায়হান উল্লাহ আরো জানান, পূর্বের বাষিক সাধারণ সভার মুলতবি এজেণ্ডাসমূহ নিষ্পত্তির জন্য আইনানুগ উপায়ে সভা আহবাণ না করে বে আইনি উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ নতুন এজেন্ডায় নতুন সভা আহবাণ করা হয়।
এছাড়া সমবায় সমিতি বিধিমালার সুষ্পষ্ট বিধান অনুসারে বার্ষিক সাধারণ সভার নোটিশ অন্তত ১৫দিন পূর্বে ডাকযোগে অথবা রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে প্রতিটি সদস্যের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু উক্ত কর্মকর্তারা তা না করে শুধুমাত্র পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে একটি অসম্পূর্ণ ও অবৈধ নোটিশ জারি করেছেন , যা বিধিবহির্ভুত। উপ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিধিমালা অনুসারে আহুত সভার নোটিশের সাথে বিগত বছরের অডিট রিপোর্ট, বার্ষিক হিসাব বিবরণী, প্রস্তাবিত বাজেটসহ আনুষাঙ্গিক অন্যান্য কাগজপত্র পাঠানো হয়নি। তাছাড়া উক্ত কর্মকর্তাগণ ব্যবস্থাপনা কমিটির যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই সোসাইটির ব্যাংক হিসাব থেকে বিপুল পরিমান অর্থ উত্তোলন করেছেন এবং সভার আগে সদস্যদের কাছে হিসাব নিকাশ পরিস্কার না করে সম্পূর্ণ অসৎ ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ওই সভা আহবাণ করেন। যা সম্পূর্ণ বে আইনি ও বাতিলযোগ্য।
মামলার বাদী ও সোসাইটির সদস্য রায়হান উল্লাহ আদালতে জানান, সোসাইটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবস্থাপক এসব বে-আইনি ও বিধি বহির্ভুত কার্যকলাপ প্রতিহত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পদক্ষেপ নিয়ে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন। তার এই সকল বক্তব্য পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে আদালত উক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন এবং কেন তা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করা হবে না তা ১৫ দিনের মধ্যে জানানোর নির্দেশ নিয়ে নোটিশ জারী করেন।