
এম.আর মিলন (বিশেষ প্রতিনিধি):
উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম ক্লাবে সংগঠনটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের প্রবেশপথে আটকে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সভায় সংগঠনটির সভাপতি ওয়াহিদ মালেকের সভাপতিত্বে ব্যবস্থাপনা কমিটির কোষাধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ তৈয়ব শিকদার, সদস্য মো. তাজুল ইসলাম, মো. নজরুল ইসলাম, মো. ইফতেখারুল হক চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির এবং ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনঞ্জুরুল আলম উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা রিট পিটিশন (নং ১৪৩৫৫/২০২৬) এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এজিএমের নোটিশের ওপর রুল জারি এবং তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন। সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ওই রিট আবেদন করেন।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সমিতির উপ-আইনের ১৫.২(১) ও ১৬.৭(গ) ধারা অনুযায়ী সভা ও বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বানের ক্ষমতা সম্পাদকের ওপর ন্যস্ত। তবে সমিতির বেতনভুক্ত কর্মচারী ও ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে এজিএম আহ্বান করায় এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন সম্পাদক। এর আগে গত ১৬ মে আহ্বান করা বার্ষিক সাধারণ সভা নিয়েও আদালতে মামলা হয়েছিল। রিট পিটিশন (নং ৬০১০/২০২৬) এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ ওই সভার ওপরও স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এদিকে শনিবারের সভায় প্রয়োজনীয়সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম পূরণ না হওয়ায় সভাপতি ওয়াহিদ মালেক আগামী ১৭ অক্টোবর একই স্থানে মুলতবি সভা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন বলে জানা গেছে। রিট আবেদনকারী সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ মান্য করা বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক। আদালতের আদেশ অমান্য করার বিষয়ে আদালতই সিদ্ধান্ত নেবেন। যেহেতু উচ্চ আদালত এ বার্ষিক সাধারণ সভা স্থগিত করেছেন, সেহেতু আমার মতে, এ সভার কার্যকারিতা ও আইনি ভিত্তি নেই। অন্যদিকে, সভার সভাপতি ওয়াহিদ মালেকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি বা আদালতের কোনো আদেশ তাঁরা পাননি। সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটি তাঁদের সমিতির নিজস্ব অনুষ্ঠান। যারা সাংবাদিকদের বাধা দিয়েছেন, তাঁদের বিষয়টি তিনি দেখবেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আদালতের আদেশ হয়েছে এবং আইনজীবীর প্রত্যয়িত কপিসহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় ই-মেইলে জানানো হয়েছে। কেউ আদেশের কপি না পেয়ে থাকলে তা আদালতকে জানাতে পারেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আদালত অবমাননার বিষয়ে শিগগিরই নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।’ জানা গেছে, শনিবারের উক্ত সভা স্থগিতের বিষয়ে আদালতের আদেশনামা ০৮.১০.২০২৬ তারিখে দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের সভাপতির ব্যক্তিগত মেইলসহ সোসাইটির কার্যালয়, জেলা সমবায় কর্মকর্তা, বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক, থানা সমবায় কর্মকর্তা, নিবন্ধক ও মহাপরিচালক এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরেও মেইলে পাঠানো হয়।