
ফাবিহা বিনতে হক :
একসময় তিনি ছিলেন লবণ ব্যবসায়ী। নিজের ছোট জাহাজে করে বঙ্গোপসাগরের উপকূল ধরে পণ্য আনা-নেওয়া করতেন। ১৬০৭ সালে দিয়াঙ্গায় গিয়ে পড়েন আরাকানি বাহিনীর হামলার মুখে। সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে নিয়ে কোনোরকমে পালিয়ে বাঁচেন। এরপর ব্যবসার বদলে হাতে তুলে নেন অস্ত্র। হয়ে ওঠেন জলদস্যু। শেষ পর্যন্ত সেই জলদস্যুই ১৬০৯ সালে দখল করেন সন্দ্বীপ।
তাঁর নাম সেবাস্তিয়ান গঞ্জালেজ তিবাউ। সপ্তদশ শতকের শুরুতে চট্টগ্রাম, দিয়াঙ্গা ও সন্দ্বীপ ঘিরে পর্তুগিজদের যে প্রভাব তৈরি হয়েছিল, তিবাউ ছিলেন সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ, পর্তুগিজদের শক্ত ঘাঁটি
সপ্তদশ শতকের শুরুতে বাংলা ছিল মোগল শাসনের অধীনে। তবে চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ছিল আলাদা। বন্দরনগরীটি তখন আরাকান রাজার নিয়ন্ত্রণে। বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি হওয়ায় চট্টগ্রাম ছিল তখনকার গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর একটি। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নানা দেশের মানুষ আসতেন। তাঁদের মধ্যে পর্তুগিজদের উপস্থিতি ছিল বেশ শক্তিশালী।
গোয়ায় পর্তুগিজদের উপনিবেশ থাকলেও চট্টগ্রামে থাকা পর্তুগিজদের সেখান থেকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা হতো না। সেসময় তাঁরা অনেকটাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ব্যবসা করত। বরং স্থানীয় বন্দর ও বাণিজ্যের বিকাশে তাদের ভূমিকা ছিল বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ আছে। এতে আরাকান রাজার সঙ্গেও পর্তুগিজদের ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।
১৬০৭ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন ফরাসি পর্যটক ও লেখক ফ্রাঁসোয়া পাইরার্ড দ্য লাভাল। তাঁর বিবরণে সে সময়কার পর্তুগিজদের জীবনযাপনের চিত্র পাওয়া যায়। তিনি লিখেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক পর্তুগিজ নিজেদের মতো করে বসবাস করতেন। কোনো নির্দিষ্ট নিয়মকানুন বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের তেমন তোয়াক্কা না করেই তাঁরা ব্যবসা করতেন। অনেকে অতীতে নানা অপরাধে জড়িয়েছিলেন। ফলে পর্তুগালে ফিরে যাওয়ার পথও বন্ধ ছিল।
এই পর্তুগিজদের একটি অংশ ধীরে ধীরে ব্যবসার পাশাপাশি সমুদ্রের শক্তি হয়ে উঠল। চট্টগ্রাম, দিয়াঙ্গা ও সন্দ্বীপকে ঘিরে তৈরি হলো তাঁদের প্রভাবের বলয়। আর সেই বলয়ের ভেতর থেকেই উঠে এলেন সেবাস্তিয়ান গঞ্জালেজ তিবাউ।
১৬০৭-এর হামলায় বদলে গেল তিবাউয়ের জীবন
মূলত আরাকান রাজ্যের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণেই চট্টগ্রামে পর্তুগিজদের প্রভাব তৈরি হয়েছিল। ১৫৯০ সালে পর্তুগিজ নাবিক আন্তোনিও ডি সুজা গোডিনহোকে গোয়া থেকে আরাকানে পাঠানো হয়। উদ্দেশ্য ছিল আরাকান রাজার সঙ্গে পর্তুগিজদের সম্পর্ক আরও শক্ত করা।
গোডিনহো কয়েকটি জাহাজ নিয়ে পেগু অঞ্চলে গিয়েছিলেন বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ আছে। পরে আরাকান রাজা তাঁকে চট্টগ্রামের কাছের দিয়াঙ্গায় একটি দুর্গ তৈরির অনুমতি দেন। একই সময়ে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত সন্দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও তাঁর হাতে আসে।
১৬০৯ সালে তিবাউ সন্দ্বীপ দখলের জন্য অভিযান চালান। সে সময় দ্বীপের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ফতেহ খান। তাঁর বাহিনীতে ছিল প্রায় ৪০টি পালতোলা জাহাজ ও ৮০০ সৈন্য। অন্যদিকে তিবাউয়ের লোকজন সংখ্যায় কম হলেও সমুদ্রযুদ্ধে তাঁদের অভিজ্ঞতা ছিল বেশি। শুরু হলো তুমুল লড়াই। শেষ পর্যন্ত জয়ী হলো তিবাউয়ের বাহিনী।
সন্দ্বীপ তখন ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বেশ প্রসিদ্ধ দ্বীপ। সমুদ্রের কাছে হওয়ায় জাহাজ চলাচল ও উপকূলীয় বাণিজ্যে এর গুরুত্ব ছিল অনেক। প্রচুর কাঠ পাওয়া যেত বলে জাহাজ তৈরি ও মেরামতের জন্যও জায়গাটি ছিল সুবিধাজনক। পাশাপাশি সন্দ্বীপে প্রচুর লবণ উৎপাদিত হতো, যা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো।
ফলে সন্দ্বীপে পর্তুগিজদের বসতি দ্রুত বাড়তে থাকে। কেউ ব্যবসা করতেন, কেউ জাহাজ চালাতেন, কেউ আবার সমুদ্রপথের অভিযানে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু গোডিনহো বেশিদিন দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণে থাকেননি। একপর্যায়ে তিনি সন্দ্বীপ ছেড়ে চলে যান। তখন দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
পর্তুগিজদের মধ্যে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ডমিঙ্গো কারভালহো ও ম্যানোয়েল দা মাত্তোসের মতো পর্তুগিজরা বিভিন্ন সময়ে সন্দ্বীপের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু ১৬০৭ সালের একটি ঘটনা পুরো পরিস্থিতি বদলে দেয়। সে বছর আরাকানি বাহিনী দিয়াঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় থাকা পর্তুগিজদের ওপর হামলা চালায়। হত্যাকাণ্ডে প্রায় ৬০০ পর্তুগিজ নিহত হন বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। ম্যানোয়েল দা মাত্তোসও মারা যান। প্রাণে বেঁচে যাওয়া অনেকে জঙ্গলে পালিয়ে যান, কেউ নৌকা নিয়ে সমুদ্রে বেরিয়ে পড়েন। তাঁদেরই একজন ছিলেন সেবাস্তিও গুদ আলভেস তিবাউ। সেই তিবাউ, যিনি পরে সেবাস্তিয়ান গঞ্জালেজ তিবাউ নামে পরিচিত হন।
এই হামলা তিবাউয়ের জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়। ব্যবসায়ী হিসেবে যে জীবন শুরু করেছিলেন, সেখান থেকে তিনি পা রাখেন সমুদ্রের অন্ধকার জগতে।
লবণ ব্যবসায়ী থেকে জলদস্যু
তিবাউয়ের শৈশব বা ভারতে আসার আগের জীবন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। ধারণা করা হয়, তিনি সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন। ১৬০৫ সালে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভারতে আসেন। গোয়ায় এসে কিছুদিন সৈনিকের কাজও করেন। কিন্তু সেনাবাহিনীতে তাঁর মন টেকেনি। রাজচাকরি ছেড়ে চলে আসেন বাংলায়।
বাংলায় এসে শুরু করেন লবণের ব্যবসা। সে সময় লবণের চাহিদা ছিল অনেক। ব্যবসা করে একটি ছোট জাহাজও কিনে ফেলেন তিবাউ। সেই জাহাজে বঙ্গোপসাগরের উপকূল ধরে পণ্য আনা-নেওয়া করতেন, লবণ বিক্রি করতেন।
১৬০৭ সালে লবণ নিয়ে তিনি দিয়াঙ্গায় যান। তখনই ঘটে সেই ভয়াবহ হামলা। আরাকানি বাহিনী পর্তুগিজদের ওপর আক্রমণ চালালে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তিবাউ সঙ্গে থাকা ৯-১০ জনকে নিয়ে কোনোরকমে পালাতে সক্ষম হন।
এই পালিয়ে বাঁচা মানুষগুলোই পরে হয়ে ওঠে তাঁর নতুন বাহিনী। বেঁচে থাকার জন্য তাঁরা নির্ভর করতে শুরু করেন সমুদ্রের ওপর। ব্যবসার বদলে তাঁদের হাতে উঠে আসে অস্ত্র। আরাকান উপকূলের বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়ে পণ্য লুট করা হয়ে ওঠে তাঁদের জীবিকা। তিবাউ ও তাঁর সঙ্গীরা ধীরে ধীরে দুর্ধর্ষ জলদস্যু হয়ে ওঠেন।
দস্যুতার সময় বিপদ এলে তাঁরা মেঘনা নদীর মোহনার দিকে চলে যেতেন। বকলার রাজার নিয়ন্ত্রণাধীন কিছু এলাকায় আশ্রয় নিতেন। বকলার রাজা পর্তুগিজদের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন ছিলেন। ফলে লুট করা পণ্য রাখার এবং প্রয়োজনে নিরাপদে থাকার সুযোগ পেতেন তিবাউরা।
এভাবেই বাড়তে থাকে তিবাউয়ের শক্তি। ছোট নৌযানের জায়গায় আসে বড় জাহাজ। বাড়ে লোকবল, বাড়ে অস্ত্র। সমুদ্র থেকে লুট করা সম্পদই হয়ে ওঠে তাঁর সামরিক শক্তি গড়ার মূল পুঁজি।
এরপর তাঁর নজর পড়ে সন্দ্বীপের দিকে। দ্বীপটির অবস্থান, বাণিজ্যের সুযোগ আর লবণের ব্যবসা, সবই ছিল তাঁর জন্য আকর্ষণীয়। তার ওপর সন্দ্বীপের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তখন অস্থির। তিবাউ বুঝতে পারলেন, এটাই সুযোগ।
যেভাবে সন্দ্বীপের রাজা হলেন
১৬০৯ সালে তিবাউ সন্দ্বীপ দখলের জন্য অভিযান চালান। সে সময় দ্বীপের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ফতেহ খান। তাঁর বাহিনীতে ছিল প্রায় ৪০টি পালতোলা জাহাজ ও ৮০০ সৈন্য। অন্যদিকে তিবাউয়ের লোকজন সংখ্যায় কম হলেও সমুদ্রযুদ্ধে তাঁদের অভিজ্ঞতা ছিল বেশি। শুরু হলো তুমুল লড়াই। শেষ পর্যন্ত জয়ী হলো তিবাউয়ের বাহিনী।
ফতেহ খান যুদ্ধে নিহত হন। তাঁর বাহিনীর অনেকে মারা যান, আবার অনেকে জলদস্যুবাহিনীর হাতে বন্দী হন। সন্দ্বীপ চলে আসে তিবাউয়ের হাতে। এই অভিযানে তিবাউকে সাহায্য করেছিলেন বকলার শাসক প্রতাপাদিত্য। তিনি ২০০ অশ্বারোহী ও যুদ্ধজাহাজ দিয়ে সহায়তা করেছিলেন। বিনিময়ে সন্দ্বীপের রাজস্বের একটি অংশ দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার পর তিবাউ সেই প্রতিশ্রুতি রাখলেন না। বরং নিজের শক্তি আরও বাড়াতে থাকেন। আরাকানি জাহাজে হামলা চালিয়ে সম্পদ সংগ্রহ করতেন। লুট করা পণ্য প্রতাপাদিত্যের বন্দরগুলোতে বিক্রি হতো। ফলে একদিকে তাঁর অর্থ বাড়ছিল, অন্যদিকে বাড়ছিল যুদ্ধ করার ক্ষমতা।
পরবর্তীতে প্রতাপাদিত্যের নিয়ন্ত্রণে থাকা দক্ষিণ শাহবাজপুর, বর্তমান ভোলা অঞ্চলের দিকেও তিবাউ নিজের প্রভাব বিস্তার করেন। এতে দুই পক্ষের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। ততদিনে তিবাউয়ের বাহিনীও বেশ শক্তিশালী। তাঁর সঙ্গে ছিল এক হাজারের বেশি পর্তুগিজ, প্রায় দুই হাজার স্থানীয় সৈন্য এবং ২০০ অশ্বারোহী। ছিল যুদ্ধজাহাজ, বাণিজ্যিক নৌকা ও নানা ধরনের অস্ত্র। সন্দ্বীপকে কেন্দ্র করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন নিজের শক্তিশালী শাসন।
তবে তিবাউ গোয়ার পর্তুগিজ সরকারের কোনো সাধারণ প্রতিনিধি ছিলেন না। গোয়া থেকে পরিচালিত পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের প্রশাসন এস্তাদো দা ইন্ডিয়ার অধীনেও ছিলেন না। নিজের শক্তি ও নৌবাহিনীর ওপর ভর করেই তিনি সন্দ্বীপ শাসন করতেন। ইতিহাসবিদেরা এই ধরনের স্বাধীন পর্তুগিজ নিয়ন্ত্রণকে অনেক সময় ছায়া সাম্রাজ্য বা অনানুষ্ঠানিক সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে দেখেছেন।
১৬০৭ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন ফরাসি পর্যটক ও লেখক ফ্রাঁসোয়া পাইরার্ড দ্য লাভাল। তিনি লিখেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক পর্তুগিজ নিজেদের মতো করে বসবাস করতেন। কোনো নির্দিষ্ট নিয়মকানুন বা সরকারি নিয়ন্ত্রণের তেমন তোয়াক্কা না করেই তাঁরা ব্যবসা করতেন। অনেকে অতীতে নানা অপরাধে জড়িয়েছিলেন। ফলে পর্তুগালে ফিরে যাওয়ার পথও বন্ধ ছিল।
তবে নিজের প্রয়োজনে গোয়ার পর্তুগিজদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিবাউ। ১৬১৫ সালের দিকে গোয়ার সরকারি নৌবহরের সঙ্গে তিনি আরাকানের রাজধানী ম্রাউক ইউ আক্রমণ করেন। লেম্রো নদীপথ ধরে এগিয়ে তাঁরা বেশ কিছু আরাকানি ও বিদেশি জাহাজে হামলা চালান। কিন্তু ডাচদের সহায়তায় আরাকান বাহিনী শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত তিবাউদের পরাজয় হয়।
এরপর আর বেশি সময় টেকেনি তাঁর রাজত্ব। ১৬১৭ সালে আরাকান রাজা মিন রাজাগিরের ছেলে ও উত্তরসূরি মিন খামাউং সন্দ্বীপ আক্রমণ করেন। তিবাউ তাঁর বাহিনী নিয়ে প্রতিরোধ করলেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হন। প্রায় আট বছর ধরে সন্দ্বীপের ক্ষমতায় থাকার পর সেখান থেকে সরে যেতে হয় তাঁকে।
এরপর তিবাউ কোথায় গেলেন?
সন্দ্বীপের ক্ষমতা হারানোর পর তিবাউ কোথায় গেলেন বা তাঁর শেষ পরিণতি কী হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। ধারণা করা হয়, আরাকান রাজপরিবারের এক নারীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল বলেই হয়তো তাঁকে হত্যা করা হয়নি। তাঁর সন্তান মানরিক যে বেঁচে ছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। তিবাউয়ের বিদায়ের পর ঐতিহাসিক বিবরণেও তাঁর উপস্থিতি আর পাওয়া যায় না।
তবে তাঁর তৈরি করা শক্তি একেবারে হারিয়ে যায়নি। তিবাউয়ের সঙ্গে থাকা পর্তুগিজদের একটি অংশ আরাকান অঞ্চলে নতুন করে বসতি গড়ে। তারা আরাকান রাজার আনুগত্য স্বীকার করে সমুদ্রপথে দস্যুবৃত্তি চালিয়ে যেতে থাকে। বাংলার উপকূলেও তাদের জাহাজে হামলা চলত। এ সময় সন্দ্বীপ আরাকানকেন্দ্রিক দাস ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়। এই ব্যবসার যোগাযোগ ছিল গোয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আরও দূরের অঞ্চল পর্যন্ত। পর্তুগিজরা ধীরে ধীরে আরাকানের সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যায়।
পরে মোগলরা আরাকানি দস্যুদের দমন করতে অভিযান চালালে অনেক পর্তুগিজ নিহত, বন্দী বা নির্বাসিত হন। একটি অংশ মোগলদের পক্ষ নেয়। পরে পর্তুগিজদের একটি অংশ চট্টগ্রামে বসতি গড়ে, যা পরিচিত হয় ফিরিঙ্গি বাজার নামে।