

স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি বলেছেন, বিগত সরকার প্রেস ক্লাবকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করেছিল। ফলে জনগণের সার্বজনীন প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের কাছে ঘৃণিত হয়ে পড়েছিল। এই প্রেস ক্লাবের বিদ্যমান সমস্যা সমাধান করতে হবে সাংবাদিকদের ঐকমত ও সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্রের আলোকে।
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম ক্লাবে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত ইফতার, দোয়া মাহফিল ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রেস ক্লাব পরিচালিত হবে নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। এই গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের এখতিয়ার শুধুমাত্র সদস্যদের। বাইরের কোনো ক্ষমতা দিয়ে এই কাজ হবে না। সরকারকে ‘জাতির অভিভাবক’ ও ‘নির্বাচিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানের সমস্যা মব কালচার দিয়ে নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক বিধিবিধানের মধ্য দিয়ে সমাধান করতে হবে।’
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই প্রেস ক্লাব ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন। পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর নামফলক উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। আমার পরামর্শ, ‘এই নামফলক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐকমত্য তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হোক। যারা এতে এগিয়ে আসবেন, তারাই প্রমাণ করবেন যে তাঁরা প্রেস ক্লাবকে প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান।’
বিগত সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী, আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় অন্যায় করার কারণে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, খুন, গুম ও প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের কারণে তারা জনগণের সমর্থন ও রাজনৈতিক ভিত্তি হারিয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান যদি দলীয়করণ হয়, তাহলে সেটিই ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা, যোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সব ধরনের অপরাধকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে ও কোনো অপরাধকে তামাদি হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। কোনো আইনবহির্ভূত পন্থায় সমাধান করা হবে না।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তার বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে সংবাদমাধ্যমকে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সংবাদকর্মীরা সমাজের দর্পণ। এটি সবসময় জনগণের সংসদ। এই সংসদ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেই থাকবে, দেশের মানুষের সঙ্গেই থাকবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা শুরু ও প্রবর্তন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম ১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এম এ মালেক, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত ও ওসমান গণি মনসুর, সিএমইউজের সভাপতি মো. শাহেনওয়াজ, মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমিন, নগর বিএনপি যুগ্ন আহ্বায়ক ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি মুস্তফা নঈম, সিএমইউজের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, নগর নিউজের সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও রিদুয়ান সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশের সম্পাদক রুশো মাহমুদ ও দৈনিক কর্ণফুলীর সম্পাদক আফসার উদ্দিন চৌধুরী ও প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা শামসুল হক হায়দরী, কাজী আবুল মনসুর এবং কমিটির কার্যকরী সদস্য রফিকুল ইসলাম সেলিম, সাইফুল ইসলাম শিল্পী, দৈনিক সুপ্রভাত চট্টগ্রামের সম্পাদক মো: হাসান মুরাদ, আরিচ আহমেদ শাহ।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, ক্লাবের সহ-সভাপতি ডেইজি মওদুদ, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক প্রধান মো. শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল ও প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ। এর আগে তথ্যমন্ত্রী প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।