বাংলাদেশ, রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং , ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ভোর ৫:৫১

হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) এর জীবনী ও কারামত


প্রকাশের সময় :২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:৩৩ : অপরাহ্ণ

মাঈন উদ্দীন রুবেল:

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ইমামুল্লারচর গ্রামের আলোকবর্তিকা খলিফায়ে গাউছুল আজম বাবা ভাণ্ডারী, যুগশ্রেষ্ঠ সাধক, মজ্জুবে মাজহর,কুতুবে জামান হযরত শাহসূফী শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) একজন উচু মকামের আউলিয়া। উনার সময়ে উনার সমতুল্য বেশক আউলিয়া খুব বিরল ছিল। যার শানে আজমত সম্পর্কে ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী শেরে বাংলা আল কাদেরী (রহঃ) তার লিখিত বিখ্যাত “দীওয়ানে আজিজ” খিতাবে শান-মান তুলে ধরেছেন। তিনি এমন এক মহান কুতুব,যিনি দুনিয়াবি কোনো ভোগ বিলাসে মত্ত ছিলেন না। শুধু প্রভূর প্রেমে ফানাফিল্লা-বকাবিল্লা ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ১২ বছর বোয়ালখালীর কড়লডেঙ্গা আধাঁর মানিক পাহাড়ের চূড়ায় আল্লাহর নৈকট্য হাছিলের জন্য রেয়াজত ও আল্লাহ প্রেমে ধ্যানমগ্ন ছিলেন। যার সাধনার স্থানটি এখনো অক্ষত আছে, উনার সাধনাস্থল এখনো পরিষ্কার রয়েছে, কোনো ঘাস বা আগাছা জন্মায় নেই বলে আজ থেকে প্রায় ১৪-১৬ বছর পূর্বে দরবার থেকে কুতুবে জামানের ভাইয়ের দৌহিত্র বর্তমান শাজ্জাদানশীন আবুল বশর শোকরীর নেতৃত্বে একটা দল ঐ স্থানে পরিদর্শন করলে উনাদের কাছ থেকে আমি মাঈন উদ্দীন রুবেল এমনটি নিজ কানে শুনেছিলাম। তাছাড়া এই মহান হাস্তীর অসংখ্য কারামতির কথা আমার আব্বাজান মরহুম আবু ছৈয়দ, ও আবুল বশর শোকরীর কাছ থেকে এবং এলাকার মুরব্বিদের লোকমূখে শুনেছিলাম। কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারীকে বনের পশুরা সম্মান করতো, বনের হাতির পাল তার কদমে লুটিয়ে পড়তো। কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে যারা বিভিন্ন ধরনের ফসল ও ফলের বাগান করে থাকে। বর্তমানেও যদি তাদের মধ্যে কেউ হাতির কবলে পড়লে হযরত শোকর আলী বাবার নাম নিলে হাতি আত্মসমর্পণ করে থাকে এবং আক্রমণের হাত থেকে তারা রক্ষা পাই বলে মাঝে মধ্যে দরবারে আসা অনেক আশেক ভক্তবৃন্দ বলে থাকে। বাবার উছিলায় তারা রক্ষা পাই বলে বিভিন্ন সময় দরবারে হাদিয়া, মানতি, নজরানা নিয়ে আসে। কুতুবে জামানের শানে একটি গানের মাধ্যমেও উনার কারামতের কথা উঠে আসে, যেমন- “সোনা মিয়া গালি দিলো রাতিয়ে তারে মারিলো,কড়লডেঙ্গা পাহাড়েতে হাতিরুক্কান বাড়িলো, শোকর বাবার দোহায় দিয়া বদি আলম বাঁচিলো, ৪৫টি হাতি এসে বাবাকে সালাম করল,আমার শোকর আলী বাবা শানের কেবলা কাবা, কেরামতি দেখায়িলো গোছে হাতির ক্যাদা, শোকর বাবায় আল্লার আকা(পাগল বা অলি)” । হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) এর বেশিরভাগ ভক্তবৃন্দ আহলা কড়লডেঙ্গা অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়। কারণ তার সাধনার স্থান ছিল কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে। তিনি সংসার, ঘর-বাড়ি ত্যাগ করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য কঠোর সাধনা ও রেয়াজতের জন্য পাহাড়ের নির্জন জায়গায় চলে গেলেন। তিনি জীবিত থাকাকালীন কোনো, টাকা-পয়সা, ধন-সম্পদের মোহে আসক্ত ছিলেন না। উনাকে টাকা পয়ঁসা দিলে ওগুলো তিনি অন্যকে দিয়ে দিতেন। টাকা-পঁয়সার দিকে ওনার ধ্যান থাকতো না, উনার ধ্যান থাকতো আল্লাহ,আল্লাহর রসূল(সাঃ) ও পীরে মুর্শিদের প্রতি এবং আল্লাহর জিকিরের প্রতি।

পাকিস্তান আমলে বা ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত বাংলার মিনিস্টার সুলতান মিয়ার সহধর্মীনী ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হলেন, তখন তিনি কোনো ডাক্তারি চিকিৎসায় ভালো হতে পারেনি। কারণ এটি হচ্ছে মরণব্যাধি ক্যানসার। যার চিকিৎসার ঔষধ এখনো পুরোপুরি  আবিষ্কার হয়নি বললে চলে। তো মন্ত্রী তার স্ত্রীকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, এমন এক সময় তিনি স্বপ্ন দেখেন যে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর অন্তর্ভুক্ত ইমামুল্লারচর গ্রামে হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারী নামে একজন সাধকের বসবাস। তার নিকট আসলে তার দোয়া ও স্পর্শের উছিলায় এই রোগ থেকে তার স্ত্রী মুক্তি পাবে। তখন তিনি এই মহান হাস্তীর সন্ধান নিয়ে ইমাম উল্লার বা ইমাম মল্ল চর গ্রামে উনার নিকট হাজির হন। ঐ মুহূর্তে হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) মজ্জুব হালে সিগারেট পান অবস্থায় ছিলেন। তখন তিনি সিগারেটের গোড়ার(শেষ) অংশটুকু মন্ত্রীর স্ত্রীকে খেতে বললেন। সিগারেটের এই অংশটুকু সেবনের কিছুদিন পর তিনি মরণব্যাধি ক্যানসার রোগ থেকে মুক্তি লাভ করেন। তখন মন্ত্রী এই মহান হাস্তীর জন্য অত্র গ্রামে জায়গা দান করেন। এরপর থেকে এলাকার মানুষজন উনাকে আরো বেশি সম্মান ও কদর করতে লাগলো। পরবর্তীতে হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারী বেছাল হলে তাকে মণন্ত্রীর দান করা জায়গাতেই সমাধিস্থ করা হয়। তৎকালীন এলাকার কিছু মানুষ তথা খিতাপচর গ্রামের  বাড়িওয়ালা নামে একজন বেড়া দিয়ে তার মাজার শরীফ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে এই অলির মাজার মিনিস্টার সুলতান মিয়ার পরিবার কর্তৃক পাকা বিশাল মাজার শরীফ নির্মাণ করে দেন। দীর্ঘ বছর পর পাকা মাজার শরীফের চাদ হতে গুম্বজের ফাটল বেয়ে বর্ষার দিনে মাঝে মধ্যে  বৃষ্টির ফোটা রওজা শরীফের উপর পড়তে দেখা যায়। ঠিক সেই বছর মন্ত্রীর কন্যা হোছনে আরা হজ্বে যায়। তখন হযরত শোকর আলী শাহ মাইজভাণ্ডারী  স্বপ্নযোগে তাকে বললো তুই মক্কা শরীফ আইয়িরে হজ্ব গরদ্দে না? ইন্দি আর রওজার উদ্দি পানি পড়েদ্দে ন দে-হর ।  তখন হজ্ব শেষে একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ২০০৫ বা ২০০৬ সালে দরবারে এসে মিনিস্টার সুলতান মিয়ার কন্যা মরহুম হোসনে আরা বেগম দরবারে এসে স্বপ্নের কথাটি আবুল বশর শোকরী ও উপস্থিত কয়েকজনের সামনে শেয়ার করার প্রাক্কালে আমি মাঈন উদ্দীন রুবেল ঐ সময় উপস্থিত থাকায় শুনতে পাই। কারণ তখন আমি দরবারের বেশি ভক্ত ছিলাম, ফকির দাদার দোয়া পাওয়ার জন্য প্রায় সময় বিনা পয়ঁসায় মাজারের খেদমত করার চেষ্টা করতাম। তো সেই বছর মন্ত্রীর কন্যা হোসনে আরা প্রায় অর্ধ কোটি টাকা খরচ করে সুন্দর নকশায় নতুন করে রওজা শরীফ নির্মাণ করে দেন। এর কয়েক বছর পর মন্ত্রীর বড় কন্যা জনাব জয়নাব মিল্কী মাজারের পাশে আবুল বশর শোকরীর সার্বিক প্রচেষ্টা ও তত্বাবধানে মসজিদ নির্মাণ করে দেন।

এই মহান অলির বহু কারামতির কথা শোনা যেতো মুরব্বিদের মুখ থেকে। আশ্চর্য কারামত, এক সময় শোকর আলী শাহ নাকি বোয়ালখালী ও পটিয়ার সীমান্তবর্তী খাল বাগদণ্ডী খালে বসে থাক ছিলেন। তখন খলিফায়ে গাউছুল আজম কুতুবে জামান হযরত জনাব কেবলা আছাদ আলী ছাহেব কেবলার একজন মুরিদান খাল পাড়ের রাস্তা দিয়ে জনাব কেবলার জন্য কলসি ভর্তি গরুর দুধ নিয়ে যাওয়ার সময় শোকর আলী শাহার সাথে পথিমধ্যে দেখা হলে তিনি জনাব কেবলার মুরিদান থেকে জিজ্ঞেস করেন কলসিতে কি নিয়ে যাচ্ছো। তখন ঐ লোকটি শোকর আলী শাহ কে উত্তরে বললেন, আমি আমার পীরের জন্য দুধ নিয়ে যাচ্ছি। তখন শোকর আলী শাহ জনাব কেবলার মুরিদানকে বললেন, “কাজী ছাহেব কেবলা দুধ খাই, শোরাইল্লেপলা দুধ ন খাই”। তখন ঐ লোকটি বললো দুধ আমি আমার পীরের জন্য মানত করছি আপনাকে দিতে পারবো না। এমতাবস্থায় লোকটি দুধ না দিয়ে জনাব কেবলার কাছে দুধের কলসিটা নিয়ে গেলে জনাব কেবলা খালি কলসি দেখে। দেখুন অলি অলিকে চিনে, তখন সাহেবে কাশফ কারামত জনাব কেবলা তার মুরিদ থেকে জিজ্ঞেস করল, আসার পথে কি তোমার কাছ থেকে একজন পাগলের মত লোক দুধ চাইছিলো। উত্তরে শিষ্য বলল, হা বাজান আমি আসার পথে শোরাইল্লা পলা নামে একজন দুধ চাইছিলো। তৎক্ষণাৎ জনাব কেবলা আর দেরি না করে শোরাইল্লা পলার নিকট কলসিটা নিয়ে পাঠালো। তিনি বলল, আমাকে কলসিটা নিয়ে আমার পীর আবার আপনার থেকে দুধ ফিরিয়ে নিতে বলল। আপনি যে আল্লাহর একজন মহান সাধক আমি তা বুঝতে পারিনাই। তো শোকর আলী শাহ কলসিতে হাত লাগালে তখন কলসি ভর্তি আবার দুধ হয়ে গেলে, তিনি তা আবার পীরের নিকট কলসি ভরা দুধ নিয়ে যায়। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায় যে হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারী জনাব কেবলার খলিফা না, তিনি গাউছুল আজম হযরত শাহসূফী সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারীর খলিফা। কারণ শিষ্য কখনো পীরের সাথে কারামত দেখায়তে যায় না। যদি কারামত দেখায় তা পীরের নিকট বেয়াদবির শামিল। হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারীর নাম মাইজভাণ্ডারের আওলাদে পাক হযরত শাহসূফী সৈয়দ শামসুদ্দোহা মাইজভাণ্ডারীর লিখিত বই বাবা ভাণ্ডারীর জীবনী বইয়ে ১৪৭ অথবা ১৬৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ পাওয়া যায় যে তিনি গাউছুল আজম বাবা ভাণ্ডারী কেবলা কাবার খলিফা। জীবনীতে উল্লেখ আছে কৃষক শোকর আলী গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবাভাণ্ডারীর দেওয়া অর্ধ গ্লাস দুধ পান করার পর নিজেকে আর সাংসারিক জীবনে ঠিক রাখতে পারে নাই পাগলের ন্যায় পাহাড়- জঙ্গলে বিচরণ করা শুরু করে কঠোর রেয়াজতের মধ্য দিয়ে মহান  আল্লাহর নৈকট্য হাছিল করেন।

একদা হযরত গাউছুল আজম হযরত শাহসূফী সৈয়দ গোলামুর রহমান প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী কেবলা কাবা জীবদ্দশায় আহলা দরবার শরীফে ১৫ দিন অবস্থান করেছিলেন। তখন হযরত শোকর আলী শাহ নাকি কোনো একটা রোগে ভোগছিলেন। তখন শোকর আলী শাহার আম্মাজান আহলা দরবার শরীফে মাইজভাণ্ডার থেকে আগত হযরত বাবাভাণ্ডারী আসার খবর শুনতে পেলে শোকর আলী শাহ’কে দোয়া ও আর্জির জন্য পাঠায়। তখন আহলা দরবারে একটা ভরা  মজলিস নাকি মাহফিল চলছিলো। মজলিসে গাউছুল আজম বাবা ভাণ্ডারী জনাব কেবলাকে এক গ্লাস দুধ পান করার জন্য দেওয়া হয়। ইউছুপে ছানী হযরত বাবা ভাণ্ডারী গ্লাসের দুধ কয়েক ঢুক পান করার পর উপস্থিত কয়েকজনকে খেত বললে কেউ দুধ পান করার সাহস পাই না। সে সময় হুট করে শোরাইল্লা পলা কোত্থেকে হঠাৎ  এসে বাবা ভাণ্ডারীর হাত মোবারক থেকে কেঁড়ে নিয়ে খেয়ে পেলেন। এর পর তিনি মজ্জুবি হালে জীবন-যাপন করছিলেন। তবে এক্ষেত্রে কিছুটা মতভেদ আছে যে, আহলা দরবার সূত্রে থেকে জানা যায় যে, জনাব কেবলাকে দুধ দিলে জনাব কেবলার কাছ থেকে তা শোকর আলী শাহ কেঁড়ে নিয়ে পান করে নেন। সেই হিসেবে জনাব কেবলা থেকে খেলাফত পেয়েছে বলেও আহলা দরবার শরীফের জীবনীতে তুলে ধরেছেন। এর পর থেকে তিনি আর বাড়ি-ঘরে থাকতে পারেনি। তিনি পাগলের ন্যায় দিক বেদিক ছুটে চলে। নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে মওলার সান্নিধ্য লাভের জন্য কড়লডেঙ্গা পাহাড়ে সাধনার জন্য চলে যায়। দীর্ঘ ১২টি বছর পাহাড় জঙ্গলে কাটিয়ে দেন। এরপর থেকে তিনি আধ্যাত্মিকতা লাভ করেন এবং তার নানা কারামত প্রকাশ পেতে থাকে। লিখনীর অভাবে এই মহান সাধকের জীবনী ও কারামতির কথা উঠে আসেনি। যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়ার পথে। তাই আমি অধম আমার কিছু জানা শোনা তথ্যের উপর ভিত্তি করে হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারীর রূহানী ফয়েজ হাছিলর জন্য উনার নজরে করমে কয়েক কথা সংক্ষেপে তুলে ধরার প্রয়াস করেছি মাত্র।

হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারীর পৈতৃক নিবাস পশ্চিম সারোয়াতলী। ইমাম উল্লার বা ইমাম মল্লা চর গ্রামে তার নানার বাড়ি। তিনি নানা বাড়িতেই বেশি থাকতে পছন্দ করতেন এবং ইমাম মল্যার চর গ্রামের আলো-বাতাসেই তিনি বড় হয়েছেন। তাই উনার বেছাল শরীফে তাকে ইমাম মল্লার চর গ্রামেই সমাধিস্থ করা হয়। উনার রওজার পূর্ব পাশেই উনার সহধর্মিণী হযরত ফাতেমা খাতুন (রহঃ) এর রওজা শরীফও রয়েছে। হযরত শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) এর কোনো সন্তান-সন্তুতি নেই। যুগ যুগ ধরে উনার ভাইয়ের ছেলে অর্থাৎ উনার ভাতিজা মরহুম মৌলানা আব্দুল কুদ্দুস শাহ ওরশ শরীফ পরিচালনা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে উনার দুই শাহজাদা মৌলানা মরহুম আবুল কালাম মিয়া ও ছোট শাহজাদা মুহাম্মদ আবুল বশর আল শোকরী মাইজভান্ডারীদ্বয় প্রতি বছর বাংলা ফাল্গুন মাসের ৯ তারিখ ২১ শে ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় ওরশ শরীফ উদযাপন করে থাকে। এই মহান অলির দরবারে সকল ধর্মের মানুষ আসে। নেইবকোনো ভেদাবেদ বিশেষ করে হিন্দু ধর্মের লোকজন এই মহান অলিকে বেশি জানে এবং মানে, তাই উনারা বেশি আসে।

আগামী ৯ই ফাল্গুন ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ইং, ও ৯ই চৈত্র ২৪শে মার্চ ২০২৬ ইং ফানাফিল্লা, বকাবিল্লা,সাহেবে কাশ্বফ কারামত, রওনকে চর ইমাম মল্যা ,হাযত-রওয়া, মুশকিল-কোশা, কুতুবে জামান হযরত শাহসূফী শোকর আলী শাহ আল মাইজভাণ্ডারী (রহঃ) এর ৮৩ তম পবিত্র ওরশ শরীফ ঝাকজমকপূর্নভাবে মহাসমাহরোহে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ইমামুল্লারচর গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।

ছবি: মাঈন উদ্দীন রুবেল  লেখক,প্রাবন্ধিক ও ব্যাংকার

ট্যাগ :