
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামবাসী আবারও প্রমাণ করেছেন যে তারা একটি শান্তিপূর্ণ চট্টগ্রাম ও একটি সুন্দর নতুন বাংলাদেশ চান। সে লক্ষ্যেই তারা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। চট্টগ্রামের কোথাও কোনো অভিযোগ, অনুযোগ, দুর্ঘটনা বা সংঘাতের ঘটনাও ঘটেনি। যার ফলে ফলাফল ঘোষণার পরও আপত্তি জানাননি কোনো প্রার্থী। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে ফলাফল মেনে নিয়েছেন। এ বিজয় চট্টগ্রামবাসীর বিজয়,এ বিজয় আপনাদের সকলের। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলার আটটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা ও বিতরণকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এসব কথা বলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুর সময় প্রধান উপদেষ্টা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন উল্লেখ করে ডিসি বলেন, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে পুনর্গঠন করা হয়। স্বল্প সময়ে নতুন পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস ছিল আমাদের পারতেই হবে। সেই দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিভিল প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
তিনি দাবি করেন, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেনি। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন ছিল, তা দূর করতে নাগরিকদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রামের নাগরিকরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার বাহিনী এবং প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিহাসের সেরা নির্বাচন একটি নির্বাচনে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। পাশাপাশি আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতার কথা বারবার স্মরণ করছি, আপনাদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় আমরা এই রকম সুশৃঙ্খল ও সুন্দর একটি নির্বাচন চট্টগ্রামবাসী তথা পুরো দেশবাসীকে উপহার দিতে পেরেছি।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে ডিসি বলেন, দেশের মানুষের কাছে বৈষম্যহীন ও নিরাপদ নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আপনারা দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে মানুষের সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করবেন, এটা অনুরোধ জানাচ্ছি। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার পরও মানুষ প্রতিকূলতার মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন এই প্রত্যাশায় যে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একটি ভালো দেশ গড়ে তুলবেন। নাগরিকেরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন যাঁদের ওপর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তাঁরা নিশ্চয়ই সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলে প্রত্যাশা করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
























