
প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
পাহাড় কাট বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা জঙ্গল সলিমপুরের পরিবেশ প্রতিবেশ সুরক্ষিত করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ পালন করতে তাগাদা নোটিশ দিয়েছে বেলা, বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম ও সৃষ্টি নামের তিনটি পরিবেশ সংগঠন। আজ ২২/১/২০২৬ তারিখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিভাগীয় কমিশনার, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনার ও সিডিএ চেয়ারম্যানকে প্রদত্ত নোটিশে উল্লেখ করা হয়—চট্টগ্রাম মহানগরীসহ এ বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলাসমূহে অবস্থিত সকল পাহাড় কর্তন বন্ধে ২০১১ সালে বেলা একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (নং ৭৬১৬/২০১১) দায়ের করে। মামলার চূড়ান্ত শুনানী শেষে বিগত ১৯ মার্চ, ২০১২ তারিখে আদালত উল্লেখিত জেলাসমুহে অবস্থিত সকল পাহাড় কর্তন বন্ধে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের নির্দেশের পরও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে বেলা হাইকোর্ট বিভাগে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় আদেশ চেয়ে আবেদন দাখিল করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বিগত ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে এ বিভাগের সকল পাহাড়ের তালিকা (দাগ, খতিয়ানসহ) এবং পাহাড়সমূহের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রস্তুত ও তা আদালতে জমা প্রদানের এবং আদালত কর্তৃক ২০১২ সালের ১৯ মার্চ রীট পিটিশন নং ৭৬১৬/২০১১ এ প্রদত্ত রায়ের আলোকে পাহাড় কাটারোধে সরকারের সংস্থাগুলো কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে (সংযুক্ত)। একইসাথে চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বশেষ বিদ্যমান পাহাড়গুলোকে আরো ক্ষতি, ধ্বংস ও কর্তন হতে রক্ষার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পাহাড় কাটা বিষয়ে আদালতের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা প্রতিটি পাহাড়ে প্রদর্শন করা এবং ইতোমধ্যে কর্তন করা হয়েছে এমন পাহাড়গুলোতে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ এবং রিটেইনিং ওয়াল (জবঃধরহরহম ডধষষ) স্থাপনের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন আদালত।
আদালতের নির্দেশের পরও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে বেলা হাইকোর্ট বিভাগে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় আদেশ চেয়ে আবেদন দাখিল করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বিগত ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ তারিখে এ বিভাগের সকল পাহাড়ের তালিকা (দাগ, খতিয়ানসহ) এবং পাহাড়সমূহের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রস্তুত ও তা আদালতে জমা প্রদানের এবং আদালত কর্তৃক ২০১২ সালের ১৯ মার্চ রীট পিটিশন নং ৭৬১৬/২০১১ এ প্রদত্ত রায়ের আলোকে পাহাড় কাটারোধে সরকারের সংস্থাগুলো কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করে (সংযুক্ত)। একইসাথে চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বশেষ বিদ্যমান পাহাড়গুলোকে আরো ক্ষতি, ধ্বংস ও কর্তন হতে রক্ষার জন্য সকল প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পাহাড় কাটা বিষয়ে আদালতের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা প্রতিটি পাহাড়ে প্রদর্শন করা এবং ইতোমধ্যে কর্তন করা হয়েছে এমন পাহাড়গুলোতে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ এবং রিটেইনিং ওয়াল (জবঃধরহরহম ডধষষ) স্থাপনের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন আদালত।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিগত ২০২২—২৩ সালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জঙ্গল সলিমপুরে সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করে পাহাড় রক্ষা ও পাহাড়ি জমি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখিত পাহাড় রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তা বেদখল হয়ে যায়। দখলদার ব্যক্তিবর্গ উক্ত পাহাড় এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যাপকভাবে পাহাড় ও পাহাড়ি জীববৈচিত্র্য নিধন করতে থাকে।
সম্প্রতি দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে জঙ্গল সলিমপুর যেন দেশের ভিতর আরেক দেশ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। বাস্তবে এলাকাটি শহরের কাছাকাছি হলেও দখলদারদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ব্যপক বিস্তার লাভ করায় এলাকাটি একটি দুর্গম এলাকায় পরিণত হয়েছে। এলাকাটি সম্পূর্ণরূপে ‘সন্ত্রাসীদের’ দখলে। বিগত ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ এ ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ এ অভিযানে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হন একজন র্যাব কর্মকর্তা যা অত্যান্ত দুঃখজনক। ইতোপূর্বে বিগত তিন বছরে উল্লেখিত পাহাড় কাটা অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্টে্রটসহ একাধিক সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছে। সময়মতো পাহাড় দখলুক্ত করে সন্ত্রসীদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে একই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পূণরাবৃত্তি ঘটছে।
প্রচলিত আইন ও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পাহাড় কাটা/মোচন ও পাহাড়ী বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আদালতের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও পাহাড় ধ্বংস ও দখল বন্ধ করতে না পারা এবং ফলশ্রম্নতিতে দেশের আইন শৃঙ্ঘলা পরিস্থিতির চরম অবণতি দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবজ্ঞা ও উদাসিনতার পরিচায়ক।
এমতাবস্থায় অত্র পত্রের মাধ্যমে নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ আদালতের আদেশ যথাযথ প্রতিপালনপূর্বক চট্টগ্রাম নগরীর জঙ্গল সলিমপুরে এলাকায় অবস্থিত পাহাড় ও পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছে। একইসাথে উল্লেখিত এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কেটে ইতোমধ্যে নির্মিত স্থাপনাসহ দখলদারদের উচ্ছেদপূর্বক ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছে। সেইসাথে উল্লেখিত এলাকায় পাহাড় ধ্বংস করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার ও র্যাব কর্মকর্তার খুনের সাথে জড়িদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার নেটওয়ার্ক মেম্বার আলীউর রহমান বলেন, এই তাগাদা নোটিশ পাওয়ার পরও যদি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন না করলে আদালত অবমাননাসহ অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহন করা হবে। প্রশাসনের উদাসীনতা ও র্নিলিপ্ততার কারনে শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরের জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের আকড়ায় পরিণত হয়েছে। যা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।

























